ছাত্রীকে থাপ্পড়ের হুমকি কর্মকর্তার, রাবি প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রীকে ‘থাপ্পড় খাবা’ বলেছিলেন চিকিৎসা কেন্দ্রের উপ-পরিচালক টেকনিক্যাল অফিসার মো. মাহবুব আলম। পরে সেই ভুক্তভোগী ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর অভিযোগ করলে সেই কর্মকর্তাকে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার ঐ ছাত্রীর অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসকের কক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাকে সর্তক করা হয় সেই সঙ্গে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক সুলতানুল ইসলাম, ছাত্র উপদেষ্টা মো. তারেক নূর, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক ও প্রধান চিকিৎসক ডা. তবিবুর রহমান শেখ।
.png)
সভা শেষে প্রো-ভিসি বলেন, শিক্ষার্থীরা যে অভিযোগ করেছিলো উনি সেটা স্বীকার করেছেন। তার ভুল হয়েছে। নিজের সন্তানের মতো মনে করেই কথা বলেছিলেন। উনি একজন বয়স্ক মানুষ। ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। আর এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সে ব্যবস্থায় নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটা পারিবারিক সূত্রের মতো সম্পর্ক হোক।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মরত চিকিৎসকদের খারাপ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে অবগত হয়েছি। বিষয়টি সমাধানে চিকিৎসকদের সঙ্গে বসার ব্যবস্থা করছি।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত সোমবার গলায় মাছের কাটা আটকে যাওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে যায় সেই ছাত্রী। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক উপ-প্রধান টেকনিক্যাল অফিসার মো. মাহবুব আলমকে চিকিৎসা দিতে বলেন। মাহবুব চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগী ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। এ সময় তিনি ‘থাপ্পড়’ দিতে উদ্যত হন এবং ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-প্রধান টেকনিক্যাল অফিসার মো. মাহবুব আলম বলেন, গতকাল মাছের গলায় কাঁটা আটকে যাওয়ার কারণে এক ছাত্রী এসেছিলো। কর্তব্যরত নার্স না থাকায়, চিকিৎসক স্যার আমাকে দেখতে বলেন। তখন আমি ওই শিক্ষার্থীর সাথে আসা মেয়েটিকে বলেছিলাম কাঁটা আছে কিনা দেখতে। তারা কাঁটা খুজে পেলে, আমি তাদের আবার চিকিৎসক স্যারের কাছে যেতে বলি। আমি ‘মা’ সম্বোধন করেই তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। এরপরে তারা আমাকে বলে আপনি তো কিছুই করলেন না। এরই প্রেক্ষিতে আমি তাদের শুধু বলেছিলাম ‘থাপ্পড় খাবা’। আমি রাগের কারণে এ কথা বলিনি। মুখ ফসকে কথাটি বেরিয়ে গিয়েছিলো। তারা আমার সন্তানের বয়সী। এ ঘটনায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।