কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তিনটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক ইউনিটে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায় মাত্র ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু এবার এইচএসসিতে জিপিএ- ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। ৪৫ হাজার জিপিএ- ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী একটি ইউনিটের পরীক্ষা অংশগ্রহণ করলে বাদ যাবে ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৯ জন জিপিএ- ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ফলাফলে দেখা গেছে, এবারে মোট পাসের হার ৯৩.৫৮ শতাংশ। তার মধ্যে জিপিএ- ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেকশন পদ্ধতিতে তিনটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রত্যেকটি ইউনিটে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পায়। সেই হিসেবে তিন ইউনিট মিলে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাবে ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু এবার এইচএসসিতে জিপিএ- ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। ফলে দেখা যাচ্ছে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৯ শিক্ষার্থী চাইলেও বসতে পারবে না রাবির ভর্তি পরীক্ষায়।
.png)
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বছরে তিনটি ইউনিটে (এ, বি, সি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ৫৫ টাকা দিয়ে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়েছে। তারপর প্রাথমিক আবেদন থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে ৪৫ হাজার জনকে চূড়ান্ত আবেদনের জন্য মনোনিত করা হয়। এরপর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত আবেদন ফি প্রদান করে পরীক্ষার আবেদন সম্পন্ন করে। ৪৫ হাজার পূরণ না হওয়ায় কয়েকবার মেরিট লিস্ট প্রকাশ করা হয়। তারপরও কোনো ইউনিটে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী পূরণ হয়নি।
সিলেকশন পদ্ধতি বাতিল করা না হলে এবার জিপিএ- ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ছাড়া আর কেউ আবেদন করার সুযোগ পাবে না। জিপিএ- ৫ পাওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীও হারাবে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ। এবিষয়ে রাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ নাসিম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। যা এবারের মোট জিপিএ- ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর চার ভাগের এক ভাগেরও কম। এর মধ্যে অনেকে আবার একাধিক ইউনিটে আবেদন করবে। যার জন্য প্রকৃত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ হাজারেরও কম হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী বিশ্বিবদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পায়। যাদের অনেকেরই এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ- ৫ ছিলোনা বা একটাতে ছিলো অন্যটিতে ছিলো না। সিলেকশন পদ্ধতির থাকলে, এবার অনেক জিপিএ- ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীই ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ পাবে না। সেখানে জিপিএ- ৫ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসবেনা। এমতাবস্থায় সিলেকশন পদ্ধতি রাখা যৌক্তিক বলে মনে করছি না।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকিব বলেন, এবারে সিলেকশন পদ্ধতি রাখলে শুধুমাত্র জিপিএ- ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাই ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এমনকি অনেক জিপিএ- ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ অধিক পরিমাণ শিক্ষার্থী জিপিএ- ৫ পেয়েছে। আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। যার জিপিএ- ৫ পেয়েছে এবং যারা জিপিএ- ৫ পায়নি সবাইকেই ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা ভর্তি পরীক্ষার মূল দায়িত্বে থাকেন। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যাতে শিক্ষার্থীদের উপকার হয়, পাশাপাশি আমরাও সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারি।