ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

তারুণ্যের ভাবনায় একুশ ও বাংলা ভাষা

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪১, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
তারুণ্যের ভাবনায় একুশ ও বাংলা ভাষা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলো ঢাকার রাজপথ। ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলো বাংলার দামাল ছেলেরা। তাদের আত্নত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি মায়ের ভাষা বাংলা। যার জন্য বাংলায় প্রাণ খুলে আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি আমরা। ভাষার মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন তারুণ্যের ভাবনা তুলে ধরেছেন আশিক ইসলাম।

আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈমা আকন্দ জানা বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম স্ফুলিঙ্গ প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। বুকের তাঁজা রক্ত ঢেলে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন এক ‘অবিনাশী বর্ণমালা’ আমাদের উচিত সেই ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরো বেশি জাগ্রত করা। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, নিজেদের আত্নপরিচয়, বাংলা ভাষার শুদ্ধ প্রয়োগ সম্পর্কে জানা। সেই সঙ্গে প্রতিটি আঞ্চলিক ভাষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণ করা। কেননা ভাষা আমাদের রক্তে মিশে আছে, এর চেয়ে বড় পরিচয় আমাদের হতে পারে না। মহান একুশ হোক আমাদের জীবনে শোক, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক।

চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এখন ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে বাংলা ভাষা উপেক্ষা করে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে ইংরেজি ভাষা শেখাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে অনেকে ইংরেজি ভাষার সঠিক ব্যবহার জানলেও, জানে না বাংলা ভাষার সঠিক প্রয়োগ। অথচ রক্তের বিনিময়ে অর্জন করতে হয়েছে আমাদের এই মাতৃভাষা। তাই পিতা-মাতার উচিত সন্তানকে বাংলার ইতিহাস সম্পর্কে জানানো। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বাংলা ভাষার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা।

Advertisement

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী সাওদা জামান রিশা বলেন, একুশ মানে এক সাদা ধবধবে পাখি, যে পাখি পারে প্রাণের কথা বলতে। একুশ মানে শিল্পীর ধবধবে সাদা ক্যানভাস। একুশ মানে এক চিলতে আলো থেকে আলোর ঝলকানি। একুশ মানে সার্বভৌমত্বের প্রথম সোপান। ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি কেবল বছরের আবর্তে পাশের বছরের সংখ্যাটি বাড়ে। বর্ধিয়মান এই সংখ্যার সঙ্গে জ্যামিতিক হারে বাড়ে আমাদের ভাষার দূরত্ব। কোন এক ফাগুনে আগুন লাগা দুপুরে বাংলা আবারো বাঙালির আপন হোক, প্রাণের স্পন্দন জেগে উঠুক ভালোবাসায়। দূর হোক আগ্রাসনের চাপে ভাষার সত্ত্বার নির্বাসন। আমার ভাষা হোক আমার পরিচায়ক, পৃথিবীর এই সুন্দর চিত্রের পশ্চাতে থেকে যাক সালাম বরকতের বুক থেকে ঝরে পড়া শেষ রক্ত বিন্দু। বন্ধ হোক ভাষার অপব্যবহার। 

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী দিপু চন্দ্র রায় বলেন, দিনে দিনে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ অবক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম বিকৃত শব্দ রুচিতে অভ্যস্ত হতে চলেছে। বাংলার সাথে ইংরেজির মিশ্রণ মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন টিভি নাটকে আঞ্চলিকতার আতিশয্য মানুষকে বিব্রত করছে। এই অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে রক্ত দিয়ে কেনা প্রিয় মাতৃভাষা তার অস্তিত্ব হারাবে। এখনই সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে সবার মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সর্বস্তরে প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা। অন্যথা একুশে ফেব্রুয়ারি পালন শুধু লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই ফলপ্রসূ হবে না।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী এম কামিল আহমেদ বলেন, যে ভাষার দাবিতে বাংলার দামাল ছেলেদের রক্ত ঝরলো রাজপথে, সে ভাষার সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। সর্বত্র বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত হোক। এটা করতে পারলেই বায়ান্নার এই দিনে প্রাণ বিসর্জন দেয়া আত্নাগুলোর প্রতি সত্যিকারের সম্মান প্রদর্শন হবে। ভাষা দিবসে সর্বত্র মায়ের ভাষার বিস্তার হোক সেই প্রত্যাশা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!