জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তি: বঞ্চিত অনেক মেধাবী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি পরীক্ষা বাদ দিয়ে এসএসসি-এইচএসসির জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তি নেয়া হচ্ছে। আগে জাতীয় বিশ্ববিধ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হতো। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হতো এই বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজে।
এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথমবর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তি নেয়া হচ্ছে। আর সেটি হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীর এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএর ভিত্তিতেই। এ কারণে অনেক ভালো শিক্ষার্থী সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাদ জিপিএর ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ১ম বর্ষে ভর্তি নেওয়া শুরু হয়। তার আগে ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সাথে জিপিএর ভিত্তিতে প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে ভর্তির মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হতো।
.png)
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ মডেল কলেজের শিক্ষক ও বিএনসিসিও সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হাবিবুর রহমান বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার ভর্তি পরীক্ষা চালু করলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা মূল্যায়িত হবে। কারণ বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে সব সময় মেধার মূল্যায়ন করা যায়না।
চট্রগ্রাম সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস হাসান বলেন, আমাদের দেশের পরীক্ষা পদ্ধতিতে সব সময় মেধার সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব হয় না। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে বোর্ড পরীক্ষায় ভালো করতে পারে না। ভর্তির সময় পরীক্ষা নিলে তারা নিজেদেরকে আবার যাচাই করা সুযোগ পায়। এদিক থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়াটা যৌক্তিক বলে মনে করি।
ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বিমল কান্তি পালও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে। তিনি বলেন, পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে স্নাতকে ফলাফল ভালো হয়। এতে করে কলেজের সুনাম যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানও বাড়ে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আবার ভর্তি পরীক্ষা চালু করার সিদ্ধান্তটি বিবেচনা করতে পারে। তবে জিপিএর ভিত্তিতে যে ভালো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়না এমনটাও না।
ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ভর্তি পরীক্ষা নিলে খাতা কাটা, প্রশ্নের মান ধরে রাখা এসব বিষয় থাকে। আপাতত এ বছর ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তবে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ বাড়ানো হতে পারে। ভর্তি কমিটির সভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে ভর্তি পরীক্ষা হবে কিনা সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে শতবর্ষী কলেজগুলোকে আলাদা করে একটা গ্রুপ করে সেই কলেজগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু করা। তবে এটি কবে নাগাদ চালু করতে পারবো সেটি এখনও বলা যাচ্ছে না।