ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

জারুল ফুলে মেতেছে গ্রীষ্মের প্রকৃতি

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:২২, ২৫ এপ্রিল ২০২২
জারুল ফুলে মেতেছে গ্রীষ্মের প্রকৃতি
বাংলার চেরি খ্যাত এই ফুলের ইংরেজি নাম ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’।

স্নিগ্ধ জারুল ফুলের বেগুনি আভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে৷ কবি আহসান হাবীব তার ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় তিনি যে আগন্তুক নন এটি প্রমাণ করতে স্বাক্ষী বানিয়েছেন জারুল গাছকে।

তিনি বলেছেন, স্বাক্ষী ওই ওই জাম, জারুল, জামরুল/ আমি কোনো অভ্যাগত নই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গেইট দিয়ে জয় বাংলা ভাষ্কর্যের দিকে এগোতে থাকলে কংক্রিটের রাস্তার দুই পাশে গাছগুলোতে যেন থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে জারুল ফুল। এসব মোহনীয় ফুলের দিকে তাকালে সত্যিই যেন মনে হয়, আমি এখানকার চিরস্থায়ী বাসিন্দা, আমি আসলেই কোনো আগন্তুক নই। মনে হয় যেন আমি এই ক্যাম্পাসের কত আপন। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রায় সবখানেই দেখা মেলে ভেষজ ঔষধি গুণসম্পন্ন উজ্জ্বল বেগুনি আভার জারুল গাছের। বসন্তে প্রকৃতি ফুলের সমারোহ ঘটালেও গ্রীষ্ম আসতেই তার মোহময়তা ফিকে হয়ে যায়, ঝরে যায় ফুলগুলো। কিন্তু জারুল তার ব্যতিক্রম, গ্রীষ্মের বৃষ্টির ছোঁয়ায় সতেজ হয়ে ওঠে এই গাছ। মেলে দেয় নিজের সব সৌন্দর্য৷ কচি সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি মারে বেগুণি-হলুদ জারুল ফুল। ছয়টি পাপড়ি ও হলুদ রঙের পরাগবিশিষ্ট এই ফুল যেমন আকর্ষণ জাগানিয়া, তেমনি তার নমনীয়তা ও কোমলতা হৃদয়ে দেয় অপ্রশান্তির দোলা।

Advertisement

বসন্তের মায়াময় পরিবেশ যখন সবে বিদায় নিয়েছে ঠিক তখনই নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছে ক্যাম্পাসের এই ফুলগুলো। এক পশলা বৃষ্টির পর এই ফুলের সৌন্দর্য যেন দ্বিগুণ বাড়ে৷ তাইতো সকাল সকাল ভেজা রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিসবাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, স্নিগ্ধ সকাল হোক কিংবা তপ্ত দুপুর৷ অথবা হোক পড়ন্ত বিকেল। এই গাছগুলো কোনক্রমেই যেন তার সৌন্দর্য কমাতে রাজি নয়। হঠাত কোনো পথচারী এ রাস্তায় হাঁটবে আর এই গাছগুলো তাকে নিজের দিকে আকর্ষণ করবে না তা যেন হবার নয়। এমনই এক সম্মোহনী শক্তি নিজের মধ্যে পুঞ্জীভূত করে রেখেছে জারুল ফুল। 

অপরূপ সুন্দর এই ফুলের বাহারি পসরা রাঙিয়ে তুলেছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মন। অনেকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাধ্যতামূলক দেখা মিলছে জারুল ফুলের চোখ রাঙানো আলোকচিত্র ও ভিডিও। আইন ও বিচার বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী মোরসালিন রহমান শিকর ক্যাম্পাসের বৃষ্টিস্নাত জারুল ফুলের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে লিখেছেন, ভেজা মাঠ, ভেজা রাস্তা আর কাকভেজা জারুল ফুল যেন মন মাতানো সৌন্দর্য। এ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আমাকে জাদুর মতো বশীভূত করে, সত্যিই অতুলনীয়।

বাংলার চেরি খ্যাত এই ফুলের ইংরেজি নাম ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’। নানাবিধ ভেষজ গুণসম্পন্ন উজ্জ্বল বেগুনি আভার জারুল ফুলের বাহারি পসরা যেন নজরুলের বিদ্রোহী আঙ্গিনাকে এনে দিয়েছে প্রেমের ছোঁয়া। কেননা নজরুলতো প্রেম ও দ্রোহের এক অনবদ্য কবি ছিলেন। নজরুল যেমন একইসাথে প্রেম ও দ্রোহ দেখিয়েছেন তার কবিতায়, তেমনি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও যেন একইসাথে সেজেছে প্রেম ও দ্রোহের এক যৌথ বিপ্লবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!