ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]
ছবির গল্প

মেটেঝুঁটি সারস আর শালিকের খুনসুটিতে এক সোনালী স্বপ্ন

শাকিল আহমেদ, তিতুমীর কলেজ
প্রকাশিত: ১৩:৫৩, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
মেটেঝুঁটি সারস আর শালিকের খুনসুটিতে এক সোনালী স্বপ্ন
এমন আলোকচিত্র ক্যামেরায় বন্দী করেন তানভির রহমান। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ধানের শীষের ডগায় ফিঙে। ঈর্ষা, ক্রোধ, কর্তৃত্ব, ভালোবাসা, কৌতুক এমন নানা অভিব্যক্তি নিয়ে কাঠবিড়ালির বসে থাকা কিংবা পাকা পেঁপে খাওয়াতে বুলবুলির ব্যস্ততা। অথবা বেলা শেষে বাবুই পাখির ঘরে ফেরা। এমন আলোকচিত্র ক্যামেরায় বন্দী করেন তানভির রহমান (২২)। তানভিরের সেসব ছবি, যেন এক একটি সোনালী স্বপ্ন।

ফটোগ্রাফারদের নানা পছন্দের বিষয় থাকে। আর সেই পছন্দের বিষয় ঘিরে ছবির মাধ্যমে নিজস্ব একটি রাজ্য গড়েন তারা। তানভিরের আগ্রহ ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফিতে। মূলত তিনি পশু-পাখি প্রেম থেকেই ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি করতে চান। 

তরুণ আলোকচিত্রী তানভির রহমান পড়ছেন রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (স্নাতক তৃতীয় বর্ষ)। তার জন্মস্থান গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া গ্রামে। কৈশোর কেটেছে নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার রুদ্রদী গ্রামে।

Advertisement

তানভির রহমানের তোলা ছবি।

তানভির ফটোগ্রাফি শুরু করেন ২০১৮ সাল থেকে। এসএসসি পরীক্ষা পরবর্তীতে বাবার কিনে দেওয়া ক্যামেরায় তার ফটোগ্রাফির হাতেখড়ি। যা সময়ের পরিক্রমায় তাকে বানিয়েছে পুরো দস্তুর একজন আলোকচিত্রী শিল্পী।

ফটোগ্রাফি শেখার পিছনের গল্পে তানভির জানান, ফটোগ্রাফির মাধ্যমে অনেককিছু প্রকাশ করা যায়। মনের কথা বা কল্পনার গল্পগুলো ছবির মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। আমি চাই, পশু পাখির বিভিন্ন না বলা কথা, তাদের জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আমার ক্যামেরায় তুলে আনতে।

তানভির রহমানের তোলা ছবি।

তবে, তানভির শুধু ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফিই করেন না। সে সব সময় ছুটে চলে সময়ের বাস্তবধর্মী গল্পগুলো তার ক্যামেরায় বন্দী করতে। সে কখনো ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা নির্জনে প্রকৃতির সঙ্গে ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দী করেন। তিনি ফটোগ্রাফিতে পেয়েছেন পুরস্কারও। তানভির ২০২০ সালের ইউং ফটোগ্রাফি প্যানেল অফ বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন থেকে সিলভার মেডেল পেয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন কমিউনিটি থেকে অ্যাওয়ার্ড ও সার্টিফিকেট পেয়েছেন।

ফটোগ্রাফির পেছনে অনুপ্রেরণার প্রশ্নে তিনি বলেন, ফেইসবুকে বিভিন্ন গ্রুপের ছবি দেখে আমি ভাবতাম, এমন ছবি চেষ্টা করলে আমিও তুলতে পারব। নিজের আত্মবিশ্বাস থেকে আব্বুকে অনেক বলে কয়ে একটা ক্যামেরা নিয়ে শুরু করি। আমার ছবি তোলায় আগ্রহ দেখে পরিবার, বন্ধু, বড় ভাই, ছোট ভাই আমাকে উৎসাহ দিত। সেই অনুপ্রেরণা নিয়েই ফটোগ্রাফি শুরু।

তানভির রহমানের তোলা ছবি।

প্রথমে তিনি ফটোগ্রাফি শিখেছেন ইউটিউব দেখে। পরে তিতুমীর কলেজ ফটোগ্রাফি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে শিখেছেন ফটোগ্রাফির আদ্যোপান্ত।

তিনি বলেন, তিতুমীর কলেজ ফটোগ্রাফি ক্লাবের সদস্য নয়ন ভাই, সুজন ভাই, তুষার ভাই, মাসুম ভাই, জুবরান ভাই, নাহিদ সুমন ভাই, আয়েশা, নাহিদ তাদের সঙ্গে থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি এবং শিখছি।

তানভির রহমানের তোলা ছবি।

একজন শিক্ষার্থীর তার ছাত্রজীবনে তালিকাভুক্ত সিলেবাসের বাইরে গিয়েও বিকল্প কিছু করা উচিৎ। হতে পারে তা ফটোগ্রাফি, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা। যা তার ক্যারিয়ারকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে তানভিরও ব্যতিক্রম নয়।

তানভির বলেন, আমার লক্ষ্য পড়ালেখা ঠিকমতো করা, তবে এর পাশাপাশি ফটোগ্রাফিও করতে চাই। ফটোগ্রাফির জন্য আমি আমার পরিবার থেকে সহযোগিতা পাই। প্রথম থেকেই আমি পরিবার থেকে সহায়তা পেয়েছি। ভবিষ্যতে আমি দেশসেরা একজন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার হতে চাই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!