এদিকে লাইব্রেরিতে ব্যবহারের জন্য শৌচাগার রয়েছে মাত্র দুটি। যা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী, জরাজীর্ণ অবস্থা, ময়লা -দুর্গন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া রিডিং রুমের মেঝে অপরিষ্কার ও নোংরা। ঠিকমতো বাতাস দেওয়ার সক্ষমতা নেই ফ্যানগুলোর। ময়লাযুক্ত ফ্যানে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার ভাষ্য, লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না এসব। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চারতলা ভবনের জন্য সুইপার রয়েছে মাত্র একজন।
.png)
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বেশিরভাগ সময়ই রিডিং রুমে পড়তে এসে সিট না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। আবার অনেকেই লাইব্রেরির বাইরে আসন পেতে বসেন, অনেকেই দুইতলার বারান্দায় বসে পড়েন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বারান্দায় বসে পড়ার পরিবেশ নেই। তাই অনেক শিক্ষার্থীকেই আসন না পেয়ে ফিরে যেতে হয়।

তাছাড়া মেয়েদের শৌচাগার দুইতলায় থাকায় তাদেরকে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মেয়েদের শৌচাগার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয় বলে জানান মেয়ে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল মাহমুদ বলেন, স্টুডেন্ট যখন বেশি থাকে তখন ওয়াশরুমে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া ওয়াশরুমের অবস্থাও খুবই খারাপ। খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বামপাশের ফ্যান নষ্ট, বাতি নেই। তাছাড়া ফ্যানগুলোতে ময়লা লেগে আছে। পরিষ্কার করা হচ্ছে না। ফলে বাতাস পাওয়া যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, পড়ার কাজে মাঝেমধ্যে ইন্টারনেটর প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেটা ব্যাবহার করা প্রায়ই কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। লাইব্রেরির মেঝে কখনো পরিষ্কার করা হয়েছে বলে মনে হয় না। লাইব্রেরি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটির সংরক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষকে আরো দায়িত্ববান হওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ইবনে গালিব বলেন, কর্তৃপক্ষ লাইব্রেরির বিষয়ে একটু বেশিই উদাসীন, হোক সেটি বই অথবা অবকাঠামোগত ব্যাপার। রিডিং রুমের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং আমরা ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগাভাগি করে ওয়াশরুমগুলো ব্যবহার করি। একটি দরজা সম্বলিত ওয়াশরুম দুটি। একটি ছাত্রীদের, অন্যটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

বিষয়টি নিয়ে লাইব্রেরিয়ান ড. ধীমান কুমার রায় বলেন, আগে একটা ওয়াশরুম ছিল। ছাত্র-ছাত্রী মিলে একটাই ব্যবহার করত। তারপর আমরা ছাত্রীদের জন্য আলাদা করে দিয়েছি। দোতলায় দুটি ওয়াশরুম রয়েছে, যার একটি আমরা মেয়েদের জন্য আলাদা করে দিয়েছি।
স্টাফ ও ছাত্রীরা সমন্বিত দরজার দুটি ওয়াশরুম, ব্যবহার করার কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, আমরা ভিতরে কাঠ দিয়ে পার্টিশন করে দিয়েছি। পরে আসন সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিল্ডিং প্রয়োজন কিন্তু বিল্ডিং তো হচ্ছে না। আমরা তো চাচ্ছি রিডিংরুমের আসন বাড়াতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, সংকটের বিষয়টা আমাদের মাথায় আছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আরো বড় পরিসরে কীভাবে কাজ করা যায়, এই অপ্রতুলতা কীভাবে দূর করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছি।
উল্লেখ্য, চারতলা ভবনবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির প্রথম তলার একপাশে রিডিং রুম অন্যপাশে মেডিকেল সেন্টার, দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরি ও কর্মকর্তা-কর্মচারী বসার স্থান, তৃতীয় তলায় নতুন চালু হওয়া সমাজকর্ম বিভাগের ক্লাসরুম ও অফিসরুম। রয়েছে অতিরিক্ত ক্লাসরুম ও ট্রান্সক্রিপ্ট বিতরণের রুম এবং চতুর্থ তলায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতর।