পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবল আগ্রহ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সেই ধারাবহিকতায় এবারো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা নতুন বছরকে বরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্যস্ত সময় পার করছে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
চৈত্রের অসহনীয় দাবদাহ অন্যদিকে রমজান, ক্যাম্পাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই অবস্থান করছেন বাড়িতে। তবে, চারুকলা অনুষদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই রয়ে গেছেন ক্যাম্পাসে। কারণ দুয়ারে কড়া নাড়ছে বৈশাখ। ‘বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি’ প্রতিপাদ্যে বর্ষবরণ করবে তারা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
.png)
_1681367565.jpg)
সরেজমিনে দেখা যায়, রাবির চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে ব্যস্ত সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য ডামি তৈরি করছেন তারা। পঙ্খিারাজ ঘোড়া, হাত পাখা, নারী ও পুরুষের মুখোশ, কচ্ছপ ও ছো-বড় টেপা পুতুলের ডামি বানানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বর্ষবরণের ডামিগুলো ভবনের তৃতীয় তলার একটি শ্রেণিকক্ষে তৈরি করছেন। বাঁশ এবং বেতের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ককশিট। সেগুলো কেটে বিভিন্ন আকৃতি দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে আঠা। আবার কেউ ব্রাশ দিয়ে ঘষে ঘষে এগুলো মসৃণ করছেন।
পুতুলের ডামি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী নয়ন আহমেদ সুমন। তিনি বলেন, বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মূল আকর্ষণে থাকে রাবির চারুকলা অনুষদ। গত কয়েকদিন ধরে বর্ষবরণের বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছে। এবারের বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণে থাকবে পঙ্খিারাজ ঘোড়া, হাত পাখা, নারী ও পুরুষের মুখোশ, কচ্ছপ এবং ছোট-বড় বিভিন্ন রকমের টেপা পুতুলের ডামি।
_1681367603.jpg)
চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী তারিফ হাসান মেহেদী জানান, বাংলা নববর্ষ বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতির একটি অন্যতম উপাদান। নিজ দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা যোগায় পহেলা বৈশাখ। বাঙালি তার নিজস্ব সংস্কৃতিতে নববর্ষ উদযাপন করে থাকে। পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির একটি ঐতিহ্য। ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়। বাংলা নববর্ষ প্রেরণার উৎস হিসেবে চির জাগরূক থাকুক সবসময়।
মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, বৈশাখকে বর্ণিল করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ডামি প্রস্তুত করার কাজ চলমান। যেগুলোর মধ্যে হাত পাখার ডামি অন্যতম। যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতির গতিশীলতার প্রতীক হিসেবে পঙ্খিরাজ ঘোড়ার ডামি তৈরি করা হচ্ছে। আরো রয়েছে কচ্ছপের ডামি। বাঙালি জাতি নিজস্ব সংস্কৃতি ধারণ করে নিষ্ঠার সঙ্গে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাঙালি লোক-সংস্কৃতির ধারক এবং বাহক হিসেবে নারী ও পুরুষের মুখোশ এবং বিভিন্ন টেপা পুতুলের ডামি প্রস্তুতের কাজ চলছে।
_1681367526.jpg)
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনাকে মাথায় রেখে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উৎযাপন করা হবে। চারুকলা প্রাঙ্গণে নববর্ষের দিন সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিসি, প্রোভিসিদ্বয়, কোষাধ্যক্ষসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। উদ্বোধনী শেষে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হবে যেটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হবে। রমজানের ছুটির কারণে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী থাকায় এবারে বর্ষবরণের দিনে দ্বিতীয় ধাপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন না থাকায় শোভাযাত্রা শেষে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
আলজাবের আহমেদ
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।