ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

জাহাঙ্গীরনগরের পুরাতন কলাভবনে চলছে নববর্ষ হাট

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০২, ১৩ এপ্রিল ২০২৩
জাহাঙ্গীরনগরের পুরাতন কলাভবনে চলছে নববর্ষ হাট
ভবনের সামনেই বিশালাকার পায়রার কাঠামো তৈরিতে ব্যস্ত কয়েকজন।

বাংলা নববর্ষ বরণকে বর্ণিল করতে নানা আয়োজন চলছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

‘বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখ উৎযাপন কমিটি ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

তারা বলছেন, এবারে নববর্ষ বরণের ‘মোটিফ’ তিনটি। একটি হচ্ছে পায়রা অন্য দুটি টেপা পুতুল। এই নিয়ে চলছে পুরাতন কলাভবনে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ব্যস্ততা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবনের সামনে পুরোদমে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সেখানে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন নিয়ে।

Advertisement

পুরাতন কলা ভবনের ভেতরে চলছে নববর্ষ হাট ১৪৩০। সেখানে চারুকলার একদল শিক্ষার্থী বিক্রি করছে বিভিন্ন রঙের মুখোশ, নকশা করা মাটির সরা। এছাড়া কাগজে কাটা ফুল-পাখিও বিক্রি করছে তারা। ভবনের ভেতরে বিশালাকৃতির কয়েকটি ঘোড়াও সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

আর চারুকলা বিভাগের ক্লাসরুমগুলোতে শিক্ষার্থীরা চিত্র ও কারুশিল্পের কাজ করছেন। কেউ মুখোশ কাটছেন, কেউ সেটায় রং করছেন। অনেকে মাটির পাতিল বা সরায় নকশা করছেন।

ভবনের সামনেই বিশালাকার পায়রার কাঠামো তৈরিতে ব্যস্ত কয়েকজন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, কবুতর শান্তির প্রতীক। দেশে দেশে যে হানাহানি, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দারিদ্রতা, অসাম্য এসব বন্ধের লক্ষ্যে পায়রাকে শান্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

নানা আয়োজন চলছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

জানতে চাইলে খাদিজা লিমা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা মাটিতেই বড় হয়েছি। আমাদের সঙ্গে এই মাটির অনেক যোগসূত্র আছে। মোটিফ হিসেবে পোড়া মাটির টেপা পুতুল দুটোকে বাংলা লোকশিল্পের ঐতিহ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রার সাজ-সজ্জা কমিটির আহ্বায়ক চারুকলা বিভাগের সভাপতি ফারহানা তাবাসসুম বলেন, পহেলা বৈশাখের আয়োজন মূলত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে করা হয়েছে। চারুকলা বিভাগ সেখানে মঙ্গল শোভাযাত্রা করার জন্য যে সাজ-সজ্জা সেটির দায়িত্ব নিয়েছে। আমাদের কাজ প্রায় শেষ। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রচুর পরিশ্রম করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের মধ্যেও এভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে পারছি এটা ভেবে আমরা আনন্দিত।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মসূচি: 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চুক্তিভিত্তিক) রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টা থেকে সোয়া ৯টা পর্যন্ত থাকছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুভেচ্ছা বিনিময়।

পৌনে ১০টায় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, অফিস, হল, জাবি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী এবং মহিলা ক্লাব ও ক্যাম্পাসবাসীর অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবন থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হবে।

বর্ষবরণ উপলক্ষে বেশকিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পহেলা বৈশাখ ১৪৩০ তারিখে দাফতরিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের মোটরসাইকেল ব্যতীত ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল প্রবেশ/চলাচল বন্ধ থাকবে। ঐদিন বহিরাগত গাড়ি প্রবেশ/চলাচল সীমিত রাখা হবে এবং কেন্দ্রীয় মসজিদের পশ্চিমে এবং জাবি স্কুল ও কলেজের মাঠে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। 

পুরাতন কলা ভবনের ভেতরে চলছে এই নববর্ষ হাট। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এ বছর নববর্ষের প্রতিপাদ্য: ‘বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি’ ব্যানারে লেখার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার একটি মাত্র ব্যানার থাকবে। কবে কুলা, ডালা ইত্যাদিতে প্রতিপাদ্য লিখে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করা যাবে।

এছাড়া পহেলা বৈশাখে কোনো রং ছেটানো যাবে না। কেউ রং ছেটালে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখোশ পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করা যাবে না, তবে মুখোশ হাতে নেওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, হল ও অফিস নিজ নিজ উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উৎযাপনের কর্মসূচি পালন করবে। ঢাকা শহরে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ক্যাম্পাসে আসা যাওয়ার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করা হবে। বাস প্রচলিত রুটে ছেড়ে আসবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!