খোলা আকাশের নিচে ভালোবাসার আয়োজন
ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে দ্রুতই বন্ধ হবে দেশের ক্যাম্পাসগুলো। ফলে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিদিনই থাকছে কোনো না কোনো বিভাগ, অনুষদ, কিংবা সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইফতার। খোলা আকাশের নিচেই চলে আয়োজন। যেখানে শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীই নন, অংশগ্রহণ করছেন সাবেক শিক্ষার্থীরাও।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠগুলোতে দেখা যায় এমন চিত্র। প্রতিদিন প্রায় ১৫-২০টি দলকে ইফতার করতে দেখা যায়।

.png)
এরই মধ্যে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বিষয়ে খ্যাতি ছড়িয়েছে। রমজানে ইফতারের আয়োজনগুলো যেন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করছে। জুনিয়রদের আমন্ত্রণে সাবেক শিক্ষার্থীরাও ইফতারগুলো অংশগ্রহণ করছেন। ফলে নবীন শিক্ষার্থীরা পেয়ে যাচ্ছেন তাদের সিনিয়রদের সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ। ইফতারে এই অংশগুলোকে কেন্দ্র করে নবীণ শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক বেশি নস্টালজিক হয়ে পড়েন।
এদিকে হাবিপ্রবির বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা অবস্থান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে। সিনিয়র-জুনিয়রের মিষ্টিসুলভ মিলবন্ধনে হলগুলোই পরিণত হয় এক একটি পরিবারে। ইফতারের সময়গুলোতে বয়সের তারতম্য ভুলে সবাইকে দেখা যায় এক হয়ে ইফতার করতে। এ যেন এক অন্যরকম সংস্কৃতির বন্ধন যেখানে থাকে না কোনো ভেদাভেদ।
_1681555765.jpg)
সারাদিনের ক্লাস-পরীক্ষা ও অ্যাকাডেমিক ব্যস্ততা শেষ করে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ইফতারের আয়োজন করেন। পরিবারের সঙ্গে সেহরি-ইফতার করতে না পারার কষ্ট যেন বন্ধুবান্ধবরাই মিটিয়ে দেয়। পাশাপাশি আয়োজনগুলোতে চলে খুনসুটি আর আড্ডা। বিকেল থেকেই ক্যাম্পাসের আশেপাশের দোকানগুলোতে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের ভিড়। পাশাপাশি ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠগুলোতে একত্রিত হতে থাকেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে বাহারি পদের ইফতারির আয়োজন করতে ব্যস্ত হয়ে পরেন।
খোলা মাঠগুলোতেই হয় ইফতারের আয়োজন। এ সময় প্রত্যেকে তার দায়িত্বে থাকা কাজগুলো খুব যত্ন সহকারে করতে থাকেন। কেউ বা প্লেট-গ্লাস সাজান, কেউ বানান শরবত, কেউবা কাটেন ফল, কেউ আবার ছোলা, মুড়ি, চপ মাখানোয় ব্যস্ত হয়ে পরেন। এছাড়াও এই ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে একত্রিত করে। সবাই মিলে নিজেরাই যেন একটি পরিবার বানিয়ে ফেলেন। সেহরি থেকে শুরু করে ইফতার সবকিছুই যেন আনন্দে ভোরে উঠে।

হাবিপ্রবির ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মরিয়ম বলেন, ‘ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি প্রত্যেকেই স্ব-স্ব পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করতে পছন্দ করে। কিন্তু নিজেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা পাড়ি দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসে খোলা আকাশের নিচে কিংবা টিএসসিতে সবাই মিলে বসে ইফতার করার সময়টা দারুণ। যেন একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে মিলেমিশে ইফতার করাটা সত্যিই অনেক আনন্দের। ক্যাম্পাসের এই স্মৃতিগুলো সারা জীবন মনে থাকবে এবং জীবনের যেকোনো সময়ে স্মৃতিচারণ যেন মুগ্ধ করবে সবাইকে।’