ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

চবিতে ভাড়ায়-খাবারে ‘গলাকাটা দাম’, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

চবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪১, ১৯ মে ২০২৩
চবিতে ভাড়ায়-খাবারে ‘গলাকাটা দাম’, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ভর্তি পরীক্ষা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জিরো পয়েন্ট থেকে এক নম্বর গেইটে যাবেন চাপাইনবয়াবগঞ্জের সাইফুল্লাহ খালেদ। ৩০ টাকার ভাড়া চালক চেয়ে বসলেন একশো ২০ টাকা। নতুন জায়গায় দর কষাকষি করেও লাভ হয়নি, দ্বিগুণ বেশি ভাড়ায় যেতে হয়েছে তাকে। 

শুধু সাইফুল্লাহই নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চলমান ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া আদায়, খাবারের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটেই চলেছে। 

ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে গত ১৫ মে থেকেই ক্যাম্পাসে হাজারো ভর্তিচ্ছু অভিভাবকের আনাগোনা শুরু হয়েছে। এই সুযোগে ইচ্ছামতো খাবারের দাম ও রিকশা ভাড়া আদায় করছে অসাধু ব্যবসায়ী এবং রিকশাচালকরা। ভর্তি পরীক্ষা সামনে রেখে খাবারের দাম ও যানবাহনের ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেসব মানতে নারাজ ক্যাম্পাসের হোটেল ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ক্যাম্পাসের রিকশাচালকরা নির্ধারিত ভাড়ার থেকে কয়েকগুণ বেশি চাচ্ছেন নবাগতদের থেকে। বেশি ভাড়া না দিলে কোনো চালকই যেতে রাজি হচ্ছেন না। অসহায় হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে ভর্তিচ্ছুদের।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ৩০ টাকা। কিন্তু এখন চাওয়া হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকা। জিরো পয়েন্ট থেকে যে কোনো ছাত্রী হলের ভাড়া ১৫ টাকা। তা এখন হয়ে গেছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। এভাবে প্রতি গন্তব্যে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছেন চালকরা। অন্যদিকে, শহর থেকে ক্যাম্পাসে বাস মালিক সমিতি নির্ধারিত ৩ নম্বর বাসে ভাড়া ২০ টাকা এবং দ্রুতযানে ৪০ টাকা। সেই ভাড়া এখন নেওয়া হচ্ছে ৪০ এবং ৬০ টাকা করে। খাবারের দোকানেও নির্ধারিত দামের বেশি রাখার অভিযোগ রয়েছে। 

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা:

ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় ৯ বাস ও সিএনজি চালককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৭ মে) সাড়ে ৫টার দিকে জিরো পয়েন্ট পুলিশ বক্সে এ জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল আলম।

গত ১৫ মে থেকেই ক্যাম্পাসে হাজারো ভর্তিচ্ছু অভিভাবকের আনাগোনা শুরু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় ৮ বাস চালককে ৫০০ টাকা করে ৪ হাজার এবং এক সিএনজি চালককে এক হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভর্তি পরীক্ষার সময় কোনো পরিবহন বাড়তি ভাড়া দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানানোর জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান করেন তিনি।

শাখা ছাত্রলীগের প্রতিবাদ:

খাবার হোটেল, ক্যান্টিন ও ডাইনিংয়ে খাবারের অতিরিক্ত দাম এবং যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে প্রধান ফটক অবরোধ করে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রধান ফটক বন্ধ করে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। 

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময়ে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া ও খাবারের দাম নেওয়া হয়। দোকানি, হোটেল মালিক বা গাড়ি চালকেরা প্রশাসনের নির্দেশনা মানছে না। তারা নিজের খেয়ালখুশি মতো খাবারের দাম বাড়ায় ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাই প্রশাসন এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করুক। তাহলে এসব বন্ধ হবে।

প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। আবাসন সংকট, খাবারের মূল্য বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, আবাসিক হলে পানির সমস্যা, ক্যাম্পাসে লোডশেডিং। ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগে আমরা সংশ্লিষ্ট গাড়ি মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি সবার সাথে কথা বলেছি। আমরা তাদেরকে খাবারের মূল্য তালিকা দিয়েছি। আমরা আবারো তাদের সঙ্গে বসব। এসব বিষয়ে তদারকি করব। অনিয়ম হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে থেকে শুরু হয়েছে চবির ভর্তি পরীক্ষা। ১৬ ও ১৭ মে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিট, ১৮ ও ১৯ মে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিট, ২০ মে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি অনুষ্ঠিত হবে ২২ মে। এছাড়া ‘ডি-১’ ও ‘বি-১’ উপ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৪ মে ও ২৫ মে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!