সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডের দক্ষিণ ও উত্তর পাশে জলাশয়ের মতো গর্ত সৃষ্টি হয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
এছাড়া পরিচর্যার অভাবে প্রচুর আগাছা ও ঘাস জন্ম নিচ্ছে। সিলেট অঞ্চল বৃষ্টি প্রবণ এলাকায় হওয়ায় মাঠটিতে বছরের অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকে।
.png)
এমনকি এই পানিগুলো স্বচ্ছ পরিষ্কার হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে আছে। এতে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে পানি জমে থাকার ফলে মশা জন্ম নিচ্ছে। ফলে দর্শকরা খেলা উপভোগ করতে পারেন না। নির্দিষ্ট সময়ে ঘাস না কাটার কারণে মাঠটির চারপাশে ঘন লম্বা লম্বা ঘাস ও লতাপাতা জন্ম নিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এসব লতা-পাতার মধ্যে সাপ ও জোঁক বাড়ছে। এছাড়া মাঠের মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় খেলতে অসুবিধা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, প্রশাসনের উদাসীনতা ও পরিচর্যার অভাবে মাঠটির এমন বেহাল দশা।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে পা দিলেই এই মাঠটি প্রথমে চোখে পড়ে। মাঠের উভয় পাশে পানি জমে থাকে, ফলে এখান থেকে মশা ও বিভিন্ন পোকামাকড় জন্ম হচ্ছে। এতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকি। অধিকন্তু এই জলাবদ্ধতা মাঠটিকে এক-তৃতীয়াংশ ছোট করে ফেলছে। ফলে এই সংকীর্ণ মাঠে আমাদের খেলারও অসুবিধা হচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা যেন অতি দ্রুতই মাঠটি সংস্করণ করেন।'
মশার প্রকোপ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের ডা. মাশরাবা সুলতানা বলেন, এখন ডেঙ্গুর সিজন। এ সময় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সম্প্রতি দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মারা যাচ্ছেন। এখনই জলাবদ্ধতাগুলো পরিষ্কার এবং ড্রেনেজের সুব্যবস্থা না করলে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশার প্রকোপ বাড়বেই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দফতরের পরিচালক চৌধুরী সউদ-বিন-আম্বিয়া বলেন, হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডে আমাদের কিছু করার নাই। হ্যান্ডবল এবং ভলিবল খেলার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুতে বালু দিয়ে খেলার উপযোগী করে দেই। এছাড়া অন্য বিষয়গুলো আমরা দেখভাল করি না।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরের প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।