দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ। ১৮৪১ সালের ১৮ জুলাই উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা কলেজ। ঐতিহ্য ও সুনাম যেন চারিদিকে বয়েই চলেছে। ইট-পাথরের নগরে ব্যস্ততার ভিড়ে অনেকের কাছেই ঢাকা কলেজ যেন প্রশান্তির জায়গা। প্রকৃতি যেন আলিঙ্গন করে, বুক ভরে সতেজ নিশ্বাস নেওয়া যায়। কলেজের ভেতরে ঢুকলেই প্রকৃতির সৌন্দর্য মনকে প্রফুল্ল করে তুলে। নিস্তেজ মনকে করে তোলে সতেজ-চাঙ্গা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঢাকা কলেজে দিন দিন বেরিয়ে চলেছে। গাছপালা-ফলফুলের সঙ্গে যুক্ত বন্য প্রাণীও। আর বানরের অবাধে বিচরণ অন্য মাত্রা যুক্ত করেছে।
.png)
খুব ভোরে শুরু হয় বানরের লাফালাফি, ডাকাডাকি, ঝগড়া আর খুনসুটি। গাছে গাছে যেন বানরের ত্রাসের রাজত্ব। প্রায় সকালে নায়েমের গলির কলেজের পাশের দেয়ালে তাদের শক্ত অবস্থান। ক্যাম্পাসে ও নায়েমে আগত মানুষদের যেন সম্ভাষণ জানায়। শহরে বড় হওয়া ছেলে-মেয়েরা বন্যপ্রাণী দেখতে অভ্যস্ত না হলেও, তারা যখন ক্যাম্পাসে বানর দেখে, তখন খুব উৎসাহ নিয়ে এদের সঙ্গে মশকরায় মেতে ওঠে। অনেকে আবার ভালোবেসে খাবার দেন- ছবি তুলেন।

কলেজের বিজয় চত্বর, শহিদ মিনার ও পুকুর পাড়, হলের বেলকনি, ছাদ, কড়াই, কাঁঠালসহ নানার গাছে বানরের আড্ডা ও বিচরণ লক্ষ করা যায়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ক্যাম্পাসে যখন প্রথম বানর দেখি- আমি বিস্মিত হই। আমাদের ক্যাম্পাসে প্রচুর গাছ। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফল তারা খায়। আমরাও বিভিন্ন খাবার দিই। বানরগুলো এই জায়গাটাকে নিরাপদ মনে করে। এখানকার ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই বানরগুলোকে খাবার দেন। নেই কোনো বন্দী বা আহত করার সম্ভাবনা। হয়তো তাই বানরগুলো ঢাকা কলেজকে তাদের আস্থার জায়গা মনে করে।
তিনি বলেন, ঢাকা কলেজে যে বানরগুলো আছে, সেগুলোর আবাসস্থল বিজিবি ও নায়েম এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
প্রসঙ্গত, বানর এক প্রকারের স্তন্যপায়ী প্রাণী। ধারনা করা হয়, বানরের উৎপত্তি সুদূর ৩.৫-৪ মিলিয়ন বছর আগে। বর্তমানে দুই দলের বানর রয়েছে। যারা হলো, নব বিশ্বের বানর আর পুরাতন বিশ্বের বানর। নব বিশ্বের বানরেরা দক্ষিণ আমেরিকায় বাস করে। পুরাতন বিশ্বের বানরেরা আফ্রিকা এবং এশিয়ায় বাস করে। নব বিশ্বের বানরেরা পুরাতন বিশ্বের বানরদের থেকে ছোট। বানরদের লম্বা হাত ও পা আছে, যার সাহায্যে এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফালাফি করে। যে সব বানরদের লম্বা লেজ আছে, তারা তাদের লম্বা লেজ দিয় গাছে ঝুলে থাকতে পারে। বানরদের প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে ছোট প্রজাতি হলো, পাইগিমিই মারমোসেট। লেজ বাদে এদের দৈর্ঘ্য ১৪ সেন্টিমিটার।