সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন মিলনায়তনে ‘ধূমকেতু পত্রিকার শতবর্ষ: ফিরে দেখা’ শীর্ষক শিরোনামে আয়োজিত সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
চবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।
.png)
উপাচার্য বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রেম, দ্রোহ, সাম্য, মৈত্রী ও মানবতার কবি। তার কাছে জাতি ভেদাভেদ ও বৈষম্যের কোনো স্থান ছিল না। এ মহান কবি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, সম্পাদক, চলচ্চিত্রকার ও গায়ক। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার মধ্যে দিয়ে সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে বিদ্রোহের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন। ‘জয় বাংলা’ তাঁর মুখে প্রথম ধ্বনিত হয়।
প্রবন্ধে ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'সাংবাদিকতা এবং জনমত পরস্পর নির্ভরশীল। জনমত গঠনে সংবাদপত্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সত্য সংবাদ প্রকাশ করা, ন্যায় ও সত্যের জন্য অবিরাম সংগ্রাম করা, শাসক শ্রেণির নির্দেশের কাছে মাথা নত না করা, মেহনতি মানুষের জীবন-জীবিকার সংগ্রামের সমর্থনে দাঁড়ানো অত্যাচারিত-উৎপীড়িত মানুষের কণ্ঠে প্রতিরোধের ভাষা দেওয়া, গণতন্ত্রের জন্য এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা- এ সবই হচ্ছে সংবাদপত্রের সামাজিক দায়িত্ব। ঔপনিবেশিক শাসনামলে আজ থেকে একশত বছর পূর্বে ১৯২২ সালে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ধূমকেতু সেই দায়িত্বই পালন করছিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম। এছাড়াও আলোচনা করেন বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক, দৈনিক আজাদীর সহযোগী সম্পাদক ছড়াকার রাশেদ রউফ।
অনুষ্ঠানে চবি বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, আইকিউএসি’র পরিচালক, কলেজ পরিদর্শক, বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ ও সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।