ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মাহত্যা

ফেসবুকে যা লিখে গেছেন জবি শিক্ষার্থী অবন্তিকা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:৫৫, ১৬ মার্চ ২০২৪
ফেসবুকে যা লিখে গেছেন জবি শিক্ষার্থী অবন্তিকা
ফাইল ফটো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রী ফাইরোজ অবন্তিকা (২৫) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। আর তার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী করে গেছেন তারই ক্লাসমেট আম্মান সিদ্দিকী ও জগন্নাথের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম।

ফাইরোজ অবন্তিকা ফেসবুকে যা লিখে গেছেন সেটির অনুলিপি তুলে ধরা হলো- আমি যদি কখনো সুইসাইড করে মারা যাই, তবে আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী থাকবে আমার ক্লাসমেট আম্মান সিদ্দিকী, আর তার সহকারী হিসেবে তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে তাকে সাপোর্টকারী জগন্নাথের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম। আম্মান যে আমাকে অফলাইন অনলাইনে থ্রেটের (হুমকি) উপর রাখতো সে বিষয়ে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেও আমার লাভ হয়নি। দ্বীন ইসলাম আমাকে নানানভাবে ভয় দেখায়। আম্মানের হয়ে আমাকে বহিষ্কার করা ওনার জন্য হাতের ময়লার মতো। আমি জানি এখানে কোনো জাস্টিস (বিচার) পাবো না। কারণ দ্বীন ইসলামের অনেক চামচা ওর পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। এই লোককে আমি চিনতামও না। 

আম্মান আমাকে ‘সেক্সুয়ালি এবিউজিভ’ কমেন্ট করায় আমি তার প্রতিবাদ করলে আমাকে দেখে নেয়ার জন্য দ্বীন ইসলামের শরণাপন্ন করায়। আর দ্বীন ইসলাম আমাকে তখন প্রক্টর অফিসে একা ডেকে নারীজাতিয় গালিগালাজ করে। সেটা অনেক আগের ঘটনা হলেও সে এখনো আমাকে নানাভাবে মানহানি করতেছে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন কথা বলে। আর এই লোক কুমিল্লার হয়ে কুমিল্লার ছাত্রকল্যাণের তার ছেলে-মেয়ের বয়সী স্টুডেন্টদের মাঝে কী পরিমাণ প্যাঁচ ইচ্ছা করে লাগায় সেটা কুমিল্লার কারো সৎসাহস থাকলে সে স্বীকার করবে। এই লোক আমাকে আম্মানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৭ বার প্রক্টর অফিসে ডেকে নিয়ে ‘(অপ্রকাশ অযোগ্য শব্দ) তুই এই ছেলেরে থাপড়াবি বলসস কেনো? তোরে যদি এখন আমার জুতা দিয়ে মারতে মারতে তোর ছাল তুলি তোরে এখন কে বাঁচাবে?’

Advertisement

আফসোস এই লোক নাকি ঢাবির খুব প্রমিনেন্ট ছাত্রনেতা ছিলো। একবার জেল খেটেও সে এখন জগন্নাথের প্রক্টর। সো ওর পলিটিকেল আর নষ্টামির হাত অনেক লম্বা না হলেও এতো কুকীর্তির পরও এভাবে বহাল তবিয়তো থাকে না এমন পোস্টে। কোথায় এই লোকের কাজ ছিল গার্ডিয়ান হওয়া আর সে কিনা শেষমেশ আমার জীবনটারেই শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি দিলো না। আমি উপাচার্য সাদোকা হালিম ম্যামের কাছে বিচার চাইলাম। আপনি এই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক।

আর আমি ফাঁসি দিয়ে মরতেছি। আমার ওপর দিয়ে কী গেলে আমার মতো নিজেকে এতো ভালোবাসে যে মানুষ, সে মানুষ এমন কাজ করতে পারে। আমি জানি এটা কোনো সলিউশন না কিন্তু আমাকে বাঁচতে দিতেছে না, বিশ্বাস করেন। আমি ফাইটার মানুষ। আমি বাঁচতে চাইছিলাম! 

আর পোস্টমর্টেম করে আমার পরিবারকে ঝামেলায় ফেলবেন না। এমনিতেই বাবা এক বছর হয়নি মারা গেছেন, আমার মা একা। ওনাকে বিব্রত করবেন না। এটা সুইসাইড না এটা মার্ডার। টেকনিক্যালি মার্ডার।

আর আম্মান নামক আমার ক্লাসমেট ইভটিজার টা আমাকে এটাই বলছিল যে, আমার জীবনের এমন অবস্থা করবে যাতে আমি মরা ছাড়া কোনো গতি না পাই। তাও আমি ফাইট করার চেষ্টা করছি। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

এদিকে, অভিযুক্ত নিহত ফাইরোজ অবন্তিকার সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা চেষ্টা করলে, তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন এই শিক্ষার্থী।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!