মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি সাংবাদিকদের সামনে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন।
জানা যায়, ড. সঞ্জয় কুমারের স্ত্রী জয়া সাহা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ বর্ষের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঐ দম্পতির ৫ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
.png)
জয়া সাহার অভিযোগ, ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জয়া ও সঞ্জয় কুমারের। বিয়ের পর থেকেই তাদের সাংসারিক জীবনে অশান্তি ও কলহ লেগেই থাকত। বিয়ের সময় ২৫ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে নানা আসবাবপত্র দেওয়া হয় সঞ্জয়কে। তাকে দেওয়া স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ২০২০ সালে ঢাকার গাবতলি এলাকায় নিজের নামে জমি কেনেন এবং সেই জমিতে স্ত্রীকে শেয়ার দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী। এত কিছু দেওয়ার পরও সবসময় অতৃপ্ত ও অখুশি থাকত। এ নিয়ে তাকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করা হত।
জয়া সাহা জানান, স্বামীর অনিচ্ছায় ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ভর্তি হওয়ায় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন সঞ্জয়। ক্লাসে যেতে ও অন্যদের সঙ্গে মিশতে বাধা দেন। এছাড়া বোরখা পড়ে ক্যাম্পাসে আসতে চাপ প্রয়োগ করেন তাকে।
নিজ বিভাগের ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানিসহ, অশ্লীল ফোনালাপসহ নানা অপকর্ম ঢাকতে তাকে ক্যাম্পাসে আসতে বাধা দিতেন বলে অভিযোগ স্ত্রীর। বিষয়টি নিয়ে তাকে নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন স্ত্রী। স্যান্ডেল, বেল্ট, ঝাঁটা, খুন্তি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হত।
অনেক সময় স্ত্রীকে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন তিনি। এসময় তিনি বলতেন, ‘তোকে আমি মেরেই ফেলব। এমন কায়দায় খুন করবো সবাই জানবে তুই আত্মহত্যা করেছিস। খুন করেছি জানলেও আমার কিচ্ছু হবে না। আমার হাত অনেক লম্বা। আমার অনেক পাওয়ারফুল লোক আছে। তোর বাপের কী ক্ষমতা আছে।’
এছাড়া বটি দিয়ে তাকে হত্যা করতেও উদ্যত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন স্ত্রী।
এদিকে সন্তান হওয়ার পর সন্তানের সামনেই স্ত্রীকে পাশবিক নির্যাতন চালাতেন ওই শিক্ষক। এছাড়া সন্তানের সঙ্গেও বাজে আচরণ ও তাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ স্ত্রীর। পরে গত বছরের ২৪জুন স্ত্রী-সন্তানকে মেরে নাটোরে পাঠিয়ে দেন সঞ্জয়। এরপর ভুক্তভোগীর মা-বাবা বিষয়টি মধ্যস্থতা করতে চাইলে সঞ্জয় ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।
এদিকে ছয় মাস আগে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর বাবা রতন কুমার সাহা। তবে অভিযোগ করলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি তারা।
এ বিষয়ে রতন কুমার বলেন, উচ্চশিক্ষিত ছেলে ভেবে আমার মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের আচরণ যে এতটা জঘন্য ও ঘৃণ্য হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। বাবা হিসেবে মেয়ের সুখ চেয়েছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মেয়ের মলিন চেহারা আমাকে মর্মাহত করত। আমি আমার মেয়ের ওপর হওয়া অমানুষিক নির্যাতনের বিচার চাই।
ভুক্তভোগী জয়া সাহা বলেন, আমার উপর হওয়া নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, আমার স্ত্রী ও সন্তানের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা। এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। আমি একটা মোকদ্দমাও করেছি। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, আমি এখনো অভিযোগের চিঠি হাতে পায়নি। আর এসব পারিবারিক বিষয়ে আমি কি করতে পারি।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে ৫ জুলাই নিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রীকে নিপীড়ন, হুমকি ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঐ ছাত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও যৌন আচরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।