ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে হঠাৎ হলে উপস্থিত ঢাবি উপাচার্য

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০৯, ১ অক্টোবর ২০২৪
শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে হঠাৎ হলে উপস্থিত ঢাবি উপাচার্য
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঘড়িতে তখন সাড়ে ৮টা, আর কয়েকটি দিনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১৩৫-এ নম্বর কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা সকাল ৯টার ক্লাসের জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বয়ং উপাচার্য খোঁজ নিতে হাজির সেই কক্ষে, কক্ষে থাকা সব শিক্ষার্থীর চক্ষু চড়কগাছ। তাদের একজন উর্দু বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমামুল হাসান সৌরভ। উপাচার্যের এমন উপস্থিতি রীতিমতো অবাক বনেছেন। এদিকে হঠাৎ করে উপাচার্যের হল পরিদর্শন রীতিমতো সব শিক্ষার্থীই বেশ আশ্চর্যান্বিত, নেই কোনো প্রটোকল। এছাড়া উপাচার্যের এমন কর্মকাণ্ডে নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে সাধারণ পোশাকে শিক্ষার্থীদের কক্ষে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে আবার আলোচনায় এসেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, এমন উপাচার্যই তো বহুদিনের প্রত্যাশিত।

এদিকে ঐ ঘটনা বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন ইমামুল হাসান সৌরভ। মুহূর্তের মধ্যে সেই স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়িয়ে। 

Advertisement

সৌরভ লিখেন—

“রুমের মধ্যে তৈরি হচ্ছি, সকালবেলা ক্লাসে যাব। হঠাৎ একজন বললেন- আপনারা কি ফ্রি আছেন? স্যার এসেছেন। 

হ্যাঁ নিশ্চয়ই! 
সেকি! স্বয়ং ভিসি স্যার হাজির। 
কেমন আছ বাবা?
তোমরা সবাই ডেক্স-বেড পেয়েছো তো?
কোনো সমস্যা নাই তো বাবা!
স্যার আমরা ঠিকঠাক।”

স্ট্যাটাসে সৌরভ আরো উল্লেখ করেন, “এমন ভিসিই কি চেয়েছিলাম, যিনি ঘুম ভাঙ্গতেই এসে হাজির হবেন খোঁজ নিতে?” সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইমামুল হাসান সৌরভ। তিনি বলেন, উপাচার্য এভাবে তার কক্ষে যাবেন তা ভাবতেই পারেননি। তিনি এসে আমাদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমরা স্যারকে জানিয়েছি যে, একরুমে চারজন থাকতে কষ্ট হয়। উনি আমাদের কথা শুনলেন। আমি বেশ অবাক হয়েছি। কারণ আগে প্রটোকলের কারণে আমরা উপাচার্যের সঙ্গে দেখাই করতে পারতাম না।’

শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে হঠাৎ হলে উপস্থিতের ঘটনায় প্রশংসায় নেটিজেনরা। এ ঘটনায় আবদুল্লাহ মামুন নামে এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন, “ভাই, কীভাবে সম্ভব! যাক অবশেষে একজন ভালো ভিসি পাইলো ঢাবি।” 

আব্দুল ফাতেহ মিথুন নামে আরেকজন লিখেছেন, “ভাবা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যার; এমন দেশটাই চেয়েছিলাম!... ”       

এদিকে অনেকে সমালোচনাও করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোসাদ্দেক হোসেন রাতুল নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, “জহু হলে না এসে, মেয়েদের হলের খবর নেন। তাদের থাকায় জায়গার ব্যবস্থা করেন। আপনি যা করতেছেন তা আমি খারাপ বলতেছি না, কিন্তু তেল দেওয়া মাথায় তেল দেওয়ার প্রয়োজন দেখি না!”

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!