ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

যে কারণে পুরান ঢাকার ২ কলেজে হামলা

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩৭, ২৪ নভেম্বর ২০২৪
যে কারণে পুরান ঢাকার ২ কলেজে হামলা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) শিক্ষার্থীসহ আনুমানিক ৩০টি কলেজের শিক্ষার্থীরা সমন্বিতভাবে কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ডিএমআরসি শিক্ষার্থীরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এরপর প্রশ্ন উঠেছে- শিক্ষার্থীদের এমন অবস্থান, বিক্ষোভ ও এই হামলার কারণ প্রসঙ্গে। 

জানা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এইচএসসি ২০২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী অভিজিৎ হাওলাদার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে পুরাণ ঢাকার ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐ শিক্ষার্থী মৃত্যু হয়। তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন।

শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনার পরবর্তী সময়ে ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা পুরাণ ঢাকার ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে প্রতিবাদ জানাতে আসলে সরকারি কবি নজরুল কলেজ ও সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। ঐ ঘটনার রেশে শিক্ষার্থীরা আজ সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

Advertisement

পরবর্তীতে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে এখন পর্যন্ত ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক জাকির হোসেনসহ প্রায় ৩৫ জনের অধিক আহত হয়েছেন। 

ধাওয়া-পাল্টা দাওয়ার এক পর্যায়ে ঢাকার সম্মিলিত কলেজের শিক্ষার্থীরা সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ভেতরে প্রবেশ করে পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। যার প্রেক্ষিতে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরাও ভয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে যায়। 

সরেজমিন দেখা যায়, পরীক্ষার হলে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র, প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পরীক্ষার হলে পড়ে আছে এবং কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর অবস্থায় দেখা যায়। তাছাড়াও কলেজের একটি অ্যাম্বুলেন্স, একটি প্রাইভেট কার ও মাইক্রো বাস ভাঙচুর করে। কলেজের বেশিরভাগ শ্রেণির কক্ষের জানালার কাচ, আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও কম্পিউটার, প্রজেক্টর, বইসহ নানা সামগ্রী লুটপাট করে। এই সময় কলেজের অধ্যক্ষসহ নারী শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে একই সময়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে বিক্ষোভকারীরা মূল গেইটে ও প্রশাসনিক ভবনের গ্লাস এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স ও  ইনস্টিটিউট ভবনের বাইরের গ্লাস ও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এইসময় কলেজের একজন নিরাপত্তা প্রহরীসহ চারজন আহত হয়। হামলার ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

এরপর শিক্ষার্থীরা পুনরায় কবি নজরুল সরকারি কলেজের প্রবেশের চেষ্টা করলে ব্যর্থ হয়ে কলেজ ভবনের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। 
দিনভর এসব ঘটনার পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৫টার দিকে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা সেন্স গ্রেগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে হামলা চালিয়েছে। জানা যায়, আজকের ঘটনায় বাকি সব কলেজের পাশাপাশি সেন্ট গ্রেগরি স্কুল ও কলেজ ও ডিএমআরসি কলেজের সঙ্গে বিক্ষোভ করেছিল।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নীরব আহম্মেদ বলেন, কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে ক্যাম্পাসে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ (ডিএমআরসি), ঢাকা সিটি কলেজ, ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা কলেজ, দনিয়া কলেজসহ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা হামলা ভাঙচুর করে। তারা তাদের একতাবদ্ধতার পরিচয় দিয়ে দুটি ক্যাম্পাসে হামলা করেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।

সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ কাকলি মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা বাকরুদ্ধ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাদের ওপর হামলা করে। আমাদের সব কক্ষে ভাঙচুর হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা আমরা দেখে বলতে পারব। আমি পুলিশকে কল দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের জানায় তাদের উপযুক্ত ফোর্স না থাকায় পদক্ষেপ নিতে পারছে না। আমি বারবার আর্মি পাঠানোর জন্য বলেছি, কিন্তু তাদের দিক থেকে কোনো রেসপন্স পাইনি।

তিনি আরো বলেন, কলেজের কোনো অফিস এবং কোনো বিভাগের কক্ষই অক্ষত নেই। পুরো কলেজ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত। দুজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত গাড়ি এবং কলেজের গাড়িটিও ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ পরে জানানো হবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী কলেজে ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৭টায় পর থেকে ডিএমআরসি কলেজে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ডিএমআরসি কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: জবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!