ঢাকা,  শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে:প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:১৩, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে:প্রতিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

Advertisement

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক না কেন, তাদের মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শেখার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শুক্রবার ঢাকার রেডিসন হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত ‘স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু বিশ্বের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার চর্চা অনুসরণ করাই সরকারের লক্ষ্য নয়; বরং একদিন বাংলাদেশ থেকেই যেন বিশ্বের অন্যান্য দেশ শিক্ষা ব্যবস্থার সেরা চর্চা গ্রহণ করে, সেটিই সরকারের স্বপ্ন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও কঠোর পরিশ্রম বিনিয়োগে সরকার প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী ইংরেজি, বাংলা কিংবা অন্য কোনো ধারায় পড়াশোনা করলেও তার মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে অভিন্ন মানদণ্ড থাকা জরুরি। ভালো ও তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকতেই পারে, তবে কারিকুলাম ও শিক্ষার মৌলিক মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ের সময়, কার্যকর লার্নিং আওয়ার, শ্রেণিকক্ষের আয়তনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক—এসব ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই একজন শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।

প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের প্রাথমিক শিক্ষায় অ্যাক্টিভিটি-বেজড লার্নিং ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা এবং লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এলএমএস) কার্যকর ব্যবহার থেকেও সরকার শিক্ষা নিতে চায়।

নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘কারিকুলাম তৈরির সময় কেউ যেন বলতে না পারেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।’ সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই সরকার সামনে এগোতে চায়।

তিনি আরও বলেন, কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি—এই চার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সমতাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অক্সফোর্ড একিউএ’র বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিসহ ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!