ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ বিনোদন ]

শিমুর গলা চেপে ধরে ফরহাদ, নোবেল ধরে ২ হাত...

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:২৬, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
শিমুর গলা চেপে ধরে ফরহাদ, নোবেল ধরে ২ হাত...
চিত্রনায়িকা শিমু- ফাইল ফটো

স্বামী নোবেল প্রথমে শিমুর গলা ধরতে গেলে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। এবার বন্ধু ফরহাদকে শিমুর গলা চেপে ধরার জন্য বলেন নোবেল। ফরহাদ গলা আর নোবেল দুই হাত চেপে ধরেন। একপর্যায়ে নিচে পড়ে যান শিমু। নোবেল শিমুর গলার উপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এক সময় নিস্তেজ হয়ে পড়েন নায়িকা শিমু।

চিত্রনায়িকা শিমু হত্যায় অংশ নেন তারই স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ। শিমু খুনের দিন স্বামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। হইচই শুনে বাসায় আসা ফরহাদ উঠে আসে। তখন নোবেল ফরহাদকে বলেন, শিমুকে ধর, ওকে আজ মেরেই ফেলব।

নোবেল ফরহাদকে দেখতে বলেন শিমু বেঁচে আছে কিনা। ফরহাদ দেখে বলেন, শিমু বেঁচে নেই। তখন তারা দুজনে মিলে মরদেহ লুকানোর পরিকল্পনা করতে থাকেন।

Advertisement

সম্প্রতি ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার ঘটনায় স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। শিমু হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বাবা-মাকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতেন নায়িকা শিমু। তাদের বাসার পাশে ছিল নোবেলের বাসা। ফলে নিয়মিত দেখা হতো। এক সময় তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরে বাবা-মায়ের অমতে শিমুকে বিয়ে করেন নোবেল। ফলে নোবেলের বাবা-মা আলাদাভাবে বসবাস করতে থাকেন। রাজধানীর গ্রিন রোডে স্ত্রী-সন্তানসহ বসবাস করতেন নোবেল।

বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য দেখা দেয় দুজনের। এর মধ্যে নোবেল শিমুকে সিনেমায় অভিনয় করতে নিষেধ করেন। তার কথামতো সিনেমা ছেড়ে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেল চাকরি নেন শিমু। এ চাকরিটাও ভালোভাবে নেননি নোবেল। এ নিয়ে নোবেল ও শিমুর সংসারে চলে আসছিল কলহ। এ কলহের কথা নোবেল তার বাল্যবন্ধু ফরহাদের সঙ্গে শেয়ার করতেন।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি সকাল সোয়া ৮টায় নোবেলের বাসায় যান ফরহাদ। এদিনই হত্যার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, হত্যার পর নোবেল রান্নাঘর থেকে দুটি পাটের বস্তা এবং ফ্রিজের উপর থেকে মিষ্টির প্যাকেট বাঁধার প্লাস্টিকের রশি আনেন। ফরহাদ শিমুর মাথা উঁচু করে ধরেন। আর নোবেল একটি বস্তার ভেতর শিমুর মাথার অংশ এবং আরেকটি বস্তায় পায়ের অংশ ভরেন।

প্লাস্টিকের রশি দিয়ে দুটি বস্তা একত্রে সেলাই করে দেন নোবেল। পরে শিমুর মরদেহ নোবেলের গাড়ির পেছনের সিটে ওঠান ফরহাদ। এর পর কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আলীপুর ব্রিজ এলাকার একটি ঝোপে মরদেহ ফেলে দেন তারা। পরদিন ১৭ জানুয়ারি আলীপুর এলাকার রাস্তার পাশ থেকে শিমুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!