ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

সামান্য তরমুজ নিয়ে ভয়ানক যুদ্ধ, অতঃপর হাজারো সৈন্যের মৃত্যু

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:২৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২০
সামান্য তরমুজ নিয়ে ভয়ানক যুদ্ধ, অতঃপর হাজারো সৈন্যের মৃত্যু
তরমুজ নিয়ে যুদ্ধ

শিরোনাম পড়ে অনেকেই অবাক হয়েছেন নিশ্চয়ই? হ্যাঁ, এমনই এক তুচ্ছ বিষয় নিয়েই হয়েছিল মারাত্মক যুদ্ধ। যাতে প্রাণ হারায় হাজারো সৈন্য। তবে এর পেছনের কাহিনী কী ছিলো সেটাই আজ আপনাদের জানাবো।

কিছুটা অদ্ভুত হলেও ইতিহাসের পাতায় এমন এক মারাত্মক যুদ্ধের উল্লেখ আছে। এ যুদ্ধে দুই পক্ষেরই হাজার হাজার সৈন্য প্রাণ হারিয়েছিলেন বলেও জানা যায়। মূলত তরমুজের গাছের ওপর কার অধিকার বেশি, এ ছিল যুদ্ধের বিষয়।

প্রায় ৩৭৬ বছর আগে ১৬৪৪ সালে এ যুদ্ধ হয়েছিল বলে জানা যায়। সে সময় ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের বিকেনার রাজ্যের সিলভা গ্রাম এবং নাগৌর রাজ্যের জখানি গ্রাম একে অপরের সঙ্গে সংলগ্ন ছিলো। রাজ্যের শেষ সীমানায় থাকা এ দুই রাজ্যের মধ্যে তরমুজ গাছের বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছিল তর্কযুদ্ধ।

Advertisement

আরো পড়ুন: রহস্য: নাচতে নাচতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলো শহরভর্তি লোক

বিকেনার নাগরিকরা মনে করতেন, গাছ যেহেতু তাদের দিকেই হয়েছে, সুতরাং ফলও তারাই পাবেন। কিন্তু অপরদিকে আবার, নাগৌর রাজ্যের বাসিন্দারা ভেবেছিলেন, ফল যখন আমাদের দিকে এসেছে, তাহলে ফলের অধিকার শুধু আমাদেরই। অর্থাৎ একটি ফল তরমুজকে নিয়ে শুরু হলো দুই রাজ্যের মধ্যে তুলুম সংঘর্ষ। তর্কাতর্কি থেকে তা নিলো যুদ্ধের আকার। শুধু তরমুজকে নিয়ে বয়ে গেলো রক্তগঙ্গা। প্রাণ হারালো হাজার হাজার সেনা। দু’পক্ষই হলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত।

কথিত আছে, এ ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সময় দুই রাজ্যের রাজারা কেউই রাজ্যে উপস্থিত ছিলেন না। বিকেনার রাজা করণ সিং একটি অভিযানে গিয়েছিলেন এবং নাগৌরের শাসক রাও অমরসিংহ ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের সেবায় ব্যস্ত। সেই ফাঁকে এ অদ্ভুত এবং হাস্যকর যুদ্ধে বিকানের সেনাবাহিনীকে রামচন্দ্র মুখিয়া এবং নাগৌর সেনাবাহিনীকে সিংহভি সুখমাল নেতৃত্বে দিয়েছিলেন।

সমস্যা সমাধানের আগেই বেঁধে গিয়েছিল এই যুদ্ধ। সেই সময় উভয় রাজ্যের রাজাই ছিলেন পরাধীন। এ যুদ্ধের খবর পেয়ে তারা তখনই মুঘল দরবারে বিষয়টি জানান। এ সমস্যা সমাধানের অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা পৌঁছানোর বহু আগেই এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ততক্ষণে একটি তরমুজকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষেরই কয়েক হাজার সৈন্যের প্রাণহানি ঘটেছিল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!