চোয়াল না থাকায় শুনতেন কটু কথা, অবশেষে পেলেন ভালোবাসার মানুষ
জোসেফ উইলিয়ামস। চোয়াল না থাকায় জন্মের পর থেকেই তাকে শুনতে হয়েছে নানা কটু কথা। সবার কাছেই জোসেফ উইলিয়ামস পরিণত হয়েছিলেন হাসির পাত্রতে। তবুও জীবনযুদ্ধে তিনি হার স্বীকার করেননি। বছর ৪১-এর উইলিয়ামসে জীবনকাহিনি এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।
সংবাদমাধ্যমেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিকাগোবাসী জোসেফ জানিয়েছেন, জন্ম থেকেই তার চোয়াল নেই। তিনি এক কঠিন রোগের শিকার হয়েছিলেন। রোগের নাম অটোফেশিয়াল সিনড্রম। তিনি কথা বলতে পারেন না। কিছু খেতেও পারেন না। তার গলার কাছে একটি পাইপ লাগানো রয়েছে। সেই পাইপের মাধ্যমেই তার শরীরে তরল খাবার প্রবেশ করানো হয়।
জন্মগত ভাবে এমন এক জটিল রোগের শিকার হওয়ার কারণে স্বাভাবিক ভাবেই তার মনোবল ভেঙে যায়। তিনি মনে করতেন, তার জীবনে বোধ হয় আর কিছুই হওয়ার নেই। অবশেষে তার জীবনে আসেন ভেনিয়া। এর পর থেকে তিনি খুঁজে পান নতুন এক জীবন।
.png)
জোসেফ জানিয়েছেন, ভিয়ানার সঙ্গে তার আলাপ হয় ২০১৯ সালে। প্রথমে তারা কেবল বন্ধু ছিলেন। কিন্তু পরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। ২০২০ সালে তারা একে অপরকে বিয়ে করেন।
ভিয়ানা জীবনে আসার পরেই বদলে গিয়েছে জোসেফের সবকিছু। ভিয়ানার কারণে তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। তিনি স্বপ্নেও কোনো দিন ভাবতে পারেননি যে, তাকে কেউ ভালোবাসবে এবং বিয়ে করবে। চোয়াল না থাকা সত্ত্বেও তাকে আপন করে নিয়েছেন ভিয়ানা। তিনি কথা বলতে না পারলেও ভিয়ানার তার মনের কথা বুঝতে কোনো সমস্যা হয় না।
তার জীবনের এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন জীবনে কখনো হাল ছাড়তে নেই। ‘হাল ছেড়ো না বন্ধু’-ই তাই জোসেফের বেঁচে থাকার মন্ত্র।
সূত্র: আনন্দবাজার।