* তরুণদের আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক
* বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দশম
* বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আত্মহত্যা করেন,
* বিষপানে আত্মহত্যার সংখ্যা বেশি
সম্প্রতিককালে বাংলাদেশে আত্মহত্যার পরিমাণ বেড়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে আত্মহত্যার দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। আত্মহত্যার ক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যাই বেশি, যাদের বয়স ১৪ থেকে ৩০ বছর। আপনি কি জানেন, জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রতিরোধযোগ্য অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ আত্মহত্যার। বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করছে। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী সাত লাখের বেশি মানুষ এভাবে প্রাণ হারাচ্ছে, যা ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ।
.png)
দেশে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ২০২৪ সালে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি প্রতি এক লাখ তরুণের মধ্যে প্রায় ১৮ জন আত্মহত্যায় মারা গেছেন। আর ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ জনে। এক বছরের ব্যবধানে তরুণদের আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুহার বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে আত্মহত্যাকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা হিসাবে না দেখে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬। দিবসটির প্রতিপাদ্য এবারে ‘আত্মহত্যা সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তন’। স্লোগান বা আহ্বান হলো-‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ও কলঙ্ক ভেঙে কথোপকথন শুরু করা।’

আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় ডব্লিউএইচও বলছে, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত তিন বছর মেয়াদী প্রতিপাদ্য ‘আত্মহত্যা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলান’-এর তৃতীয় ও শেষ বছর হলো ২০২৬। এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে এবারের মূল আহ্বান হলো—‘কথা বলা শুরু করুন’।প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ একটি অভিন্ন বার্তা নিয়ে এক হোন-আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য।
২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা ও ডব্লিউএইচওর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই দিবসের লক্ষ্য হলো-সতর্কতামূলক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, সামাজিক কুসংস্কার কমানো এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ‘Changing the Narrative on Suicide’।
২০১০ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃক প্রকাশিত এবং প্রফেসর এএমএম ফিরোজ ও প্রফেসর এসএম নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ লক্ষ মানুষ আত্মহত্যাপ্রবণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়েসিদের আত্মহত্যার প্রবণতা মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। আরো বলা হয়, বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আত্মহত্যা করেন, যার মধ্যে বিষপানে আত্মহত্যার সংখ্যা বেশি।
বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে দেশে আত্মহত্যা করেন ১০ হাজার ৭৪৯ জন। আর ২০১৭ সালে নভেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ২৫৬ জন। দুই বছরের এই হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৯ জনের বেশি আত্মহত্যা করেছে। এসব আত্মহত্যা ঘটনার বেশিরভাগই ফাঁসিতে ঝুলে, বিষপান অথবা আগুনে পুড়ে ঘটছে।
বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন ও এনজিওর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ১০ হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করেন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ধনী দেশগুলোয় সাধারণত বেশি বয়সী মানুষ আত্মহত্যা করেন। দরিদ্র দেশগুলোয় অল্প বয়সের মানুষ আত্মঘাতী হন বেশি। ৭৫ শতাংশেরও বেশি আত্মহননের ঘটনা ঘটে দরিদ্র দেশগুলোতে। বেশিরভাগ দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আর ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রায় ২ কোটি নারী-পুরুষ আত্মহননের চেষ্টা করে। এর মধ্যে প্রায় ১০ লাখ নারী-পুরুষ আত্মহননের মাধ্যমে মারা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা আত্মহত্যা করেন তাদের তিনজনের মধ্যে একজন মাদকাসক্ত এবং আর ৭৫ শতাংশ মাদকাসক্তই আত্মহত্যার প্রবণ।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চল, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো এবং জাপানে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি।
গত ৫০ বছরে সারা পৃথিবীতে, মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আত্মহত্যার হার শতকরা ৬০ শতাংশ বেড়েছে। সারা পৃথিবীর যত মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করে, তার মধ্যে ২.০৬ শতাংশ বাংলাদেশি। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রতি লাখে ১২৮.০৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। প্রতিবছর এই সংখ্যা বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মহসিন আলী শাহ্ এক বিবৃতিতে বলেন, আত্মহত্যা মানে নিজেকে হত্যা করা ঠিকই কিন্তু পাশাপাশি এর সাথে থাকতে হবে নিজেকে খুন করার প্রগাঢ় ইচ্ছাশক্তি। তিনি বলেছেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে সবার আগে যা করণীয় তা হলো এর কারণগুলো খুঁজে বের করা। শুধুমাত্র চিকিৎসক নয়, পাশাপাশি আত্মহত্যা প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব পরিবার এবং সমাজ থেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতানুযায়ী, পৃথিবী থেকে চিরবিদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেও সেটি দ্রুত কার্যকর না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। যদিও আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে চরম মানসিক যন্ত্রনা, হতাশা বা গ্লনি। যা কষ্টের সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেলে এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়। মনে রাখা দরকার, এজীবন শুধু নিজেকে নিয়ে নয়। নিজের দুঃখ, কষ্ট, কঠিন সমস্যার গন্ডির বাইরেও আছে এক বড় পৃথিবী। যেখানে অন্যরাও পুরোপুরি সুখি নয়। নিঃসঙ্গতা, চরম একাকিত্ববোধ থেকেও আত্মহত্যার চিন্তা মনে আসে।
একটু ভাবলেই দেখবেন নিজেকে নিঃশেষ করার আগে চারিদিকে তাকান, দেখবেন বেঁচে থাকার মতো অনেক কারণ আছে। আছে অনেক প্রয়োজন।

পৃথিবীর থেকে অনেক কিছু উপভোগের আনন্দের উৎস আছে। আবার পৃথিবীকে অনেক কিছুই দেওয়ার আছে আপনার। কেন আপনি শূন্যতায় ঝাঁপ দিবেন। আপনার জীবনের অনেক মূল্য। অবারিত সম্ভাবনা আছে আপনার মাঝেও। মন হালকা করুন, দেখবেন আত্মহত্যার হাতছানিও উধাও হয়ে যাবে।
আবেগ নয়, যুক্তি দিয়ে ভাবুন- পৃথিবীতে আপনি একাকী নন। আবার আমরা সবাই একা। সবাইকেই চলে যেতে হয়। জীবন চলার পথে বাঁধা, ব্যর্থতা, পরাজয় আছেই। তারপরও আছে- জয়ের অমিত সম্ভাবনা।
আত্মহত্যাকে অনেক ধর্মেই পাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মানুষ কেন আত্মহত্যা করে তার নানান দৃষ্টিকোন থেকে বিশ্লেষণ আছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণ দেখে জানা যায়, মানুষ তখনই আত্মহত্যা করে যখন তার জ্ঞান, বুদ্ধি, উপলব্ধি এমনকি অনুধাবন শক্তি পর্যন্ত লোপ পায়। সে তখন নিজেকে অসহায় এবং ভরসাহীন মনে করে।
বিশ্বে বর্তমানে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মানুষের মৃত্যুর প্রধান তিনটি কারণের একটি হলো আত্মহত্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ, হতাশা, অবসাদ ও হেনস্তার শিকার হয়ে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। আবার আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও পারিবারিক সঙ্কটের কারণেও অনেকে আত্মহত্যা করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রিভেনটিং সুইসাইড এ বলা হয়, প্রতি বছর বিশ্বে ১০ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। সারাবিশ্বে প্রতি ২ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন সফলভাবে আত্মহত্যা করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অপর এক তথ্য থেকে জানা যায়, গত ৪৫ বছরে ৬০ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে।
মনোবিজ্ঞানীদের ধারণা, ধনী দেশগুলোয় বেশি বয়সী মানুষ এবং দরিদ্র দেশগুলোয় অল্প বয়সের মানুষ আত্মহত্যা বা আত্মঘাতী হয় বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দরিদ্র দেশগুলোতে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয় ৭৫ শতাংশেরও বেশি। বেশিরভাগ দেশে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আর ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

আত্মহত্যার প্রবণতা কমানো সম্ভব
সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মহত্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে এমন মানুষকে যদি চিহ্নিত করা যায় তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কথা বলার সুযোগ পেলে সেই পথ থেকে তার ফিরে আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে।
তাদের মতে, বাংলাদেশে আত্মহত্যা প্রতিরোধে অসংখ্য হটলাইন চালু করা জরুরি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ব্যক্তি পর্যায়ে ‘কান পেতে রই’ নামে এ ধরনের একটি হেল্প লাইন চালু হয়েছে। যারা মানসিক বিষাধগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা সমাধানের নানা পথ বলে দেয়। সংস্থাটির সাথে যোগাযোগের নম্বর- ০১৭৭৯৫৫৪৩৯১, ০১৭৭৯৫৫৪৩৯২, ০১৬৮৮৭০৯৯৬৫, ০১৫১৭৯৬৯১৫০ (ফেসবুক লিঙ্ক-https://www.facebook.com/kaan.pete.roi/?locale=bn_IN)।

আত্মহত্যার পূর্ববর্তী মানসিক লক্ষণসমূহ :
- ঘন ঘন মৃত্যুর কথা বলা, আমি বাচতে চাইনা, দূরে কোথাও চলে যাব, জীবন দিয়ে দেব এসব বলা। এছাড়াও শারীরিক ভাবে নিজের ক্ষতি করা যেমন: হাত কাটা, নিজের শরীরে আঘাত করা।
- বড় কোন দূর্ঘটনার স্বীকার, কাছের প্রিয় কোন ব্যক্তি কে হারানো (মৃত্যু/হারিয়ে যাওয়া), ডিভোর্স, আপন ব্যক্তিদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া, প্রেমে ব্যর্থতা, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা, মান সম্মান হানি, ব্যবসায় ক্ষতি।
- পারসোনালিটির পরিবর্তন, সমসময় দুঃখী হয়ে থাকা, অন্যমনস্ক, চিটচিটে মেজাজ, হতাশ, ক্লান্ত হয়ে থাকা।
- ব্যবহারে পরিবর্তন, স্কুল-কলেজে, কাজের জায়গায়, দৈনন্দিন জীবনের কোন কিছুতে মন দিয়ে কাজ না করতে পারা।
- ঘুমের সমস্যা, বাজে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা, অনেক রাতে/ভোরে না ঘুমিয়ে চলাফেরা করা।
- খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম, খাবারে অনীহা কিংবা অতিরিক্ত খাওয়া।
- আত্মমর্যাদা কমে যাওয়া, নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করা, নিজের প্রতি ঘৃণা, লজ্জা বোধ হওয়া।
- ভবিষ্যৎ এর কোন আশা না থাকা।
আত্মহত্যা প্রবণতা কমানো সম্ভব
- নিজের প্রতি যত্নবান হওয়া: নিজের প্রতি যত্নবান হলে, নিজেকে ভালবাসতে শিখলে মানুষ জীবনের মায়া বেশি করে।
- নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। আত্মবিশ্বাস এবং আত্মমর্যাদা মানুষকে অনেক উপরে নিয়ে যেতে পারে।
- একাকীত্ব থেকে আত্মহত্যা প্রবণতা বেশী কাজ করে। তার মাঝে সাহস যোগাতে হবে, জীবনের মূল্য বুঝাতে হবে।
- পারিবারিক সহযোগিতা অনেক বড় জিনিস। আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এমন ব্যক্তিদের সেই সময় পারিবারিক সাহায্যের খুব প্রয়োজন হয়।
- নিজের ফিলিংস শেয়ার করার মাধ্যমে মন হালকা করা।
- আত্মহত্যা দমনে গণসচেতনতারর বিকল্প নেই। সমাজ,রাষ্ট্র সর্বস্তরে আত্মহত্যা প্রতিহত করতে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
সূত্র: Internation Assosiation For Suicide Prevention-IASP