ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]
সাত দশকের ঐতিহ্য

'দেশবন্ধু সুইটমিট'-এর পরোটা ভাজি

জহিরুল হক
প্রকাশিত: ১০:৪০, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
'দেশবন্ধু সুইটমিট'-এর পরোটা ভাজি
দোকান শুরুর পর শচী মোহন গোপ মাঠা কিংবা দুধ রাখেননি। তবে রেখেছিলেন দই। সেই টক-মিষ্টি স্বাদের দইয়ের ওপরে সরের তেমন আস্তরণ নেই। দই নরম ও মিষ্টি পরিমিত। দইটা পুরো টক না, টক-মিষ্টি মেশানো দুধের দই। দোকানের শুরু থেকেই আছে এটা। আর দুপুরেও খাবার হিসেবে ভাত, রুই ম

সকাল-বিকাল পাঁচফোড়ন দিয়ে রান্না করা আলু-পটল-বেগুন-মিস্টি কুমড়ার "সেইরকমের" ভাজি,ডাল,হালুয়া পরোটার নাস্তার পাশাপাশি দুপুরের খাবারে গরম গরম ভাতের সাথে মাছ,মুরগী ও খাসীর মাংস,ডাল,ডিম এবং খিচুড়ি খেতে হলে, হাতে সময় নিয়ে চলে আসতে পারেন ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যের স্বাক্ষী দেশবন্ধু রেস্টুরেন্টে।

আরো আছে রসগোল্লা, রসমালাই, ছানার আমিত্তি, রাজভোগ, কালোজামের মতো মজাদার দই মিস্টি। টিকাটুলি ইত্তেফাকের বিপরীতে মতিঝিলের বিখ্যাত দেশবন্ধু রেস্টুরেন্ট,যা হালুয়া-ভাজি-পরোটার জন্য সাত দশক সময় ধরে মানুষের কাছে  প্রিয় একটি নাম। ঢাকার ইত্তেফাক মোড়ের প্রায় ৭০ বছরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে এখনো চলছে দেশবন্ধু সুইটমিট এন্ড রেস্টুরেন্ট। 

একটা সময় ছিল যখন কবি, লেখক, শিল্পীরা এদিকে আসতেন, আড্ডা দিতেন। এই হোটেলে ফিল্মের লোকজনও আসতেন। তখন তো গুলিস্তানের এদিকেই ছিল শহর। পুরান ঢাকাও খুব জমজমাট। আর তার সঙ্গে মতিঝিলের এদিকটাও ৬০ এর দশক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল। এদিকে বাণিজ্যিক বিভিন্ন ভবনও ছিল। তখন আমাদের দোকানের বিপরীতে ইত্তেফাকের অফিস।

Advertisement

দেশবন্ধু সুইটমিট এন্ড রেস্টুরেন্ট" প্রতিষ্ঠাতা :শচী মোহন গুহ। সময়টা ৫০ এর  দশকের শেষ দিক। শচী মোহন গোপ তখন রাস্তায় বিক্রি করতেন দুধ, দই আর ...

জানা যায়, হাটখোলা রোডে ইত্তেফাকের মোড়ে অবস্থিত দেশবন্ধু সুইটমিট এন্ড রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৮ সালে। প্রতিষ্ঠাতা শচীমোহন গোপ আগে রাস্তার মোড়ে বিক্রি করতেন দই-মাঠা। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ঘোষের ভক্ত ছিলেন শচীমোহন। তার পরিবারের ধারণা, দেশবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকেই নিজের দোকানের নাম রেখেছিলেন দেশবন্ধু সুইটমিট।

সময়টা ৫০ এর দশকের শেষ দিক। শচী মোহন গোপ তখন রাস্তায় বিক্রি করতেন দুধ, দই আর মাঠা। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা করলেন নিজের রেস্তোরাঁ। নাম দেশবন্ধু সুইটমিট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। আইটেম হিসেবে এলো সকাল আর সন্ধ্যার জন্য পরোটা, লুচি। সঙ্গে হালুয়া, লাবড়া আর ৩-৪ প্রকারের মিষ্টি।

জনশ্রুতি আছে, দেশবন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ (১৮৭০-১৯২৫)। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর। তাদের জীবনদর্শন গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল শচী মোহনকে। আর তাই মতিঝিলে নিজের প্রতিষ্ঠা করা রেস্তোরাঁর নাম দেশবন্ধু দিয়েছিলেন। সে সময় ইত্তেফাক পত্রিকার অফিস ছিল এর বিপরীতেই। সংবাদকর্মীরা নাশতা করতে আসতেন। সেখান থেকেই ছড়িয়ে গেল নাম।

Legendary Food Places of Dhaka! 📍Deshbandhu Sweetmeat and Restaurant  Address- 9/I, Motijheel B/A, Dhaka 1000 Time 7am-10pm Started their journey  in 1958, I had the honour of visiting this 67 years old

৬০-৭০ এর দশকে এখান থেকে বহুবার এফডিসিতে নাশতা গেছে। এখানকার হালুয়া (সুজি), পরোটা আর ভাজির খ্যাতি ছিল পুরো ঢাকায়৷ এখনও আশপাশ তো বটে, বাইরে থেকেও লোকজন খেতে আসে। এই হোটেলের নাশতা রাজ্জাক, কবরী, শাবানাদেরও পছন্দের ছিল।

বর্তমানে দেশবন্ধু হোটেলে সকালের নাস্তায় আছে লুচি, পরোটা, ভাজি, হালুয়া আর নানা ধরনের মিষ্টি। ৪৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যেই ভাজি-হালুয়াসহ নাস্তা সেরে ফেলা যায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সম্প্রতি কিছুটা দাম বেড়েছে সবকিছুর। মিষ্টির মধ্যে রাজভোগ, ছানার আমিত্তি আর কালোজাম কাস্টমারদের বেশি পছন্দ। 

Legendary Food Places of Dhaka! 📍Deshbandhu Sweetmeat and Restaurant  Address- 9/I, Motijheel B/A, Dhaka 1000 Time 7am-10pm Started their journey  in 1958, I had the honour of visiting this 67 years old

দুপুরের ভাত-মাছও পাওয়া যায় দেশবন্ধুতে। রুই মাছ, মুরগির মাংস, খাসির মাংস, ডাল, ডিম, ভাত আর খিচুড়ি থাকে রোজকার তালিকায়। সাথে পরোটা-ভাজি পাওয়া যায় সারাদিনই। সকাল, দুপুর আর বিকালে তিনবার রান্না হয় আলু, পটল, বেগুন আর মিষ্টিকুমড়ার বিখ্যাত সেই ভাজি। 

মূল রান্না হয় হাটখোলায় বড় রান্নাঘরে। রাজধানী সুপার মার্কেটের পাশে দেশবন্ধুর আরেকটা শাখাও আছে। সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্তই পাওয়া যায় খাবার। পার্সেল হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা নেই।

দোকান শুরুর পর শচী মোহন গোপ মাঠা কিংবা দুধ রাখেননি। তবে রেখেছিলেন দই। সেই টক-মিষ্টি স্বাদের দইয়ের ওপরে সরের তেমন আস্তরণ নেই। দই নরম ও মিষ্টি পরিমিত। দইটা পুরো টক না, টক-মিষ্টি মেশানো দুধের দই। দোকানের শুরু থেকেই আছে এটা। আর দুপুরেও খাবার হিসেবে ভাত, রুই মাছ, মুড়িঘণ্ট, মুরগি, খাসি এসব পাওয়া যায়। সেটাও অনেকদিন আগে, অর্থাৎ শচী মোহন থাকতে থাকতেই চালু হয়েছিল। এখন দোকান তার ছেলে শ্যামল গোপের মালিকানায় চলছে। 

সংগ্রহ : জহিরুল হক

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!