ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কাঁকড়ার চাহিদা তুঙ্গে

মুকুল মোহাম্মদ
প্রকাশিত: ১১:৫০, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কাঁকড়ার চাহিদা তুঙ্গে
বাংলাদেশ থেকে মূলত চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড এবং কোরিয়া– এই দেশগুলোতে কাকড়া রপ্তানি হয়। এই বাজারগুলোতে কাকড়া এক্সোটিক ফুড হিসেবে খুব জনপ্রিয় এবং দামও অনেক বেশি।

বাংলাদেশের উৎপাদিত সামুদ্রিক কাঁকড়া এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। চীনে বাংলাদেশের কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চীন ছাড়াও থাইল্যান্ড, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, হংকং, তাইওয়ান, আরব আমিরাতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সামুদ্রিক কাঁকড়ার বেশ চাহিদা রয়েছে।

বাংলাদেশে নদী-খাল-বিল আর সমুদ্র উপকূল মিলিয়ে প্রচুর কাকড়া পাওয়া যায়। বিশেষ করে সুন্দরবন এবং কক্সবাজার অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবেই কাকড়ার উৎপাদন বেশি হয়। আর আমাদের কাকড়ার মান আন্তর্জাতিকভাবে অনেক ভালো—ফলে বিদেশে এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

চিংড়ির পরই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্য হিসেবে উঠে আসছে কাঁকড়া, বিশেষ করে সফটশেল কাঁকড়া। বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের কাঁকড়ার চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, যা দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির একটি বড় সুযোগ। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের প্রসার ঘটাতে এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়াতে আমাদের রপ্তানিকারকদের এগিয়ে আসতে হবে।

Advertisement

বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হচ্ছে কাঁকড়া চাষ

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে সবচেয়ে বেশি কাঁকড়া চাষ হয় খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে। বিগত অর্থবছরে মোট ১৬ হাজার ৬৭২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কাঁকড়া চাষ হয়েছে। এসব জমিতে ১০ হাজার ৭৮২ মেট্রিক টন কাঁকড়ার চাষ হয়। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কাঁকড়ার ওজনভেদে ১৮টি গ্রেড বা ধরন হয়ে থাকে। নরম খোলসের কাঁকড়া গ্রেড ভেদে প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়।

বাগদা চিংড়ির মতোই কাঁকড়াও উপকূলীয় লবণাক্ত পানিতে চাষ করা হয়। তাই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কাঁকড়ার চাষ বেশি হয়।

পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, কাঁকড়া চাষে দেশে এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ জড়িত। সরকারি ও বেসরকারি অনুদানে এখন পর্যন্ত ৫টি হ্যাচারি তৈরি হয়েছে। এসব হ্যাচারিতে ১৫ লাখ ক্র্যাব লেট (কাঁকড়ার পোনা) উৎপাদিত হয়।

কোথায় যায় আমাদের কাকড়া?

বাংলাদেশ থেকে মূলত চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড এবং কোরিয়া– এই দেশগুলোতে কাকড়া রপ্তানি হয়। এই বাজারগুলোতে কাকড়া এক্সোটিক ফুড হিসেবে খুব জনপ্রিয় এবং দামও অনেক বেশি।

আমাদের উপকূলের কাদায় যে কাঁকড়া আর কুঁচে ঘোরে, চীন আর পূর্ব এশিয়ায় সেটাই এখন দামি ডেলিকেসি। আর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার, এগুলো রপ্তানি করতে হয় জ্যান্ত অবস্থায়।

শুনতে অবাক লাগে, তাই না? কাঁকড়া আবার বিদেশে বেচা যায় নাকি! কিন্তু সংখ্যাটা শুনলে থামবেন। একসময় প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ টন কাঁকড়া জ্যান্ত অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে চীনে যেত, বছরে কোটি কোটি টাকার। চীন, হংকং, সিঙ্গাপুরের মানুষ এই কাদার কাঁকড়ার জন্য চড়া দাম দেয়, কারণ আমাদের উপকূলের কাঁকড়া ওখানকার চেয়ে মোটা আর ভারী, স্বাদেও আলাদা।

মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় কাঁকড়া রেখে ঘের তৈরি করে চাষ করা হয়। এই কাঁকড়া একটি নির্দিষ্ট ওজন পর্যন্ত হলে সেটি বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ঘেরে চাষ করা ছাড়াও হার্ড সেল বা খোসাসহ এই কাঁকড়া বিভিন্ন নদ-নদীতেও পাওয়া যায়। সেগুলো সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়। আরেকটি হচ্ছে সফট সেল কাঁকড়া চাষপদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের বাক্সের ভেতরে কাঁকড়ার চাষ করা হয়।

কাকড়া রফতানি – বাংলাদেশের এক বিশাল সম্ভাবনার দরজা

বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বেশি কাকড়া রপ্তানি করছে, আর এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক রেস্টুরেন্টগুলোতে কাকড়ার চাহিদা অনেক বেশি এবং চীনসহ এশিয়ান মার্কেটগুলোতে দামও ভালো। 

দেশ থেকে রপ্তানি হওয়া মৎস্য সম্পদের মধ্যে বিদেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা চিংড়ির। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি হয় কাঁকড়া। দেশে উৎপাদিত কাঁকড়ার প্রায় ৯৮ শতাংশই রপ্তানি হয় চীনসহ ১৭টি দেশে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশ থেকে ৩০৯ কোটি টাকার কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছিল, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে কাঁকড়া রপ্তানি বেড়ে প্রায় ৩ গুণ হয়েছে।

বাংলাদেশের উপকূলের লবণাক্ত পানিতে জন্ম নেয়া কাঁকড়া এখন শুধু স্থানীয় রেস্টুরেন্টেই নয়, বরং সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া আর দুবাইয়ের ফাইভ-স্টার হোটেলগুলোর প্লেটে জায়গা করে নিয়েছে।

আর আশ্চর্যের বিষয় হলো — অনেক সফল রপ্তানিকারক শুরু করেছিলেন একদম ছোট পরিসরে। কেউ ৮০ কেজি কাঁকড়া পাঠিয়েছেন চীনে, কেউ ৫০ কেজি লাইভ কাঁকড়া পাঠিয়ে এখন মাসে টন হিসেবে অর্ডার পাচ্ছেন।

জানা গেছে, হাঁটি হাঁটি পা পা করে ১৯৭৭ সালে যে কাঁকড়া রপ্তানি শুরু হয়েছিল, তা এখন যাচ্ছে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে। এখানেই শেষ নয়, দেশের প্রায় ১৫ প্রজাতির কাঁকড়াই বিদেশিদের কাছে আকর্ষণীয় এবং সুস্বাদু হওয়ায় বিশ্ববাজারে রপ্তানির অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দেশে কাঁকড়া আহরণের সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার কক্সবাজার ও সুন্দরবন। তবে বাড়তি দামের আশায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিমওয়ালা কাঁকড়া শিকারের মহোৎসবও চলছে। যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন আমাদের কাঁকড়া-কুঁচের এত কদর? 

কারণ আমাদের আবহাওয়া, মাটি আর পানির গুণেই এই কাঁকড়া তরতাজা আর পুষ্ট হয়। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, কক্সবাজারের উপকূলে এই কাঁকড়ার ঘের আর প্রাকৃতিক উৎস অসংখ্য। মানে কাঁচামাল আমাদের হাতেই, প্রকৃতির দেওয়া।
এবার সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপারটা, আর এটাই এই ব্যবসার আসল খেলা। কাঁকড়া-কুঁচে রপ্তানি হয় জ্যান্ত, মরা না। মানে ধরার পর থেকে বিদেশি ক্রেতার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত এগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হয়। এদের বাছাই করে, ঝুড়িতে সাজিয়ে, আর্দ্রতা ঠিক রেখে, দ্রুত এয়ার কার্গোতে পাঠাতে হয়, ভোরের আগে প্যাকিং শুরু হয়ে যায়। এখানে সময়ই সব, একটু দেরি হলে বা তাপমাত্রা ঠিক না থাকলে কাঁকড়া মরে গেলে পুরো চালান লস। এই লাইভ-লজিস্টিকসটাই এই ব্যবসাকে আলাদা করে, আর যে এটা ভালো সামলাতে পারে, বাজারটা তার।

বড় হওয়ার জন্য বড় হ্যাচারি বা বিশাল ইনভেস্টমেন্ট নয়, সঠিক প্রসেস আর ধারাবাহিক মান বজায় রাখাই মূল চাবিকাঠি!

লাভজনক কেন?

 • স্থানীয় বাজারে কাকড়ার দাম তুলনামূলক কম, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রিমিয়াম প্রাইসে বিক্রি হয়।
 • রপ্তানিকারকরা সঠিক চেইন মেইনটেইন করতে পারলে কম সময়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
 • বাংলাদেশ সরকারও মাছ ও কাকড়া রপ্তানিতে ভর্তুকি ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে।

কাঁকড়া রফতানি সাধারণত দুইভাবে করা যায় — 
জীবন্ত (Live Crab) এবং 
হিমায়িত বা প্রক্রিয়াজাত (Frozen/Processed Crab) আকারে।

১. Live Mud Crab (সবচেয়ে জনপ্রিয় ও লাভজনক ধরন)
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় জীবন্ত কাঁকড়া, কারণ বিদেশি রেস্টুরেন্ট, হোটেল এবং সি-ফুড মার্কেটে এর দাম অনেক বেশি।
সিঙ্গাপুর, চীন, হংকং, মালয়েশিয়া— এসব দেশে “freshly cooked crab” এর চাহিদা বিশাল, তাই তারা জীবন্ত কাঁকড়াই কিনে থাকে।
এই ধরনের কাঁকড়া রপ্তানির জন্য কিছু শর্ত মানতে হয়।
কাঁকড়াগুলো হতে হবে একদম সুস্থ ও নড়াচড়া করতে সক্ষম। সাধারণত এগুলো রাখা হয় styrofoam box বা plastic container-এ, যেখানে সামান্য ভেজা বালু বা কাপড় থাকে যাতে ঠান্ডা ও আর্দ্র পরিবেশ বজায় থাকে। চালানের সময় তাপমাত্রা সাধারণত ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা হয় (air cargo)।
লাইভ কাঁকড়ার দাম সব ধরনের কাঁকড়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি, কারণ “live” মানেই প্রিমিয়াম মানের পণ্য।

২. Frozen or Processed Crab (হিমায়িত বা প্রক্রিয়াজাত কাঁকড়া)
যারা জীবন্ত কাঁকড়া রপ্তানি করতে পারেন না, তারা সাধারণত এই পদ্ধতিতে কাজ করেন। এখানে কাঁকড়াগুলো পরিস্কার করে, পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে cleaned & frozen আকারে সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে থাকে যেমন — frozen whole crab, frozen crab meat, বা cooked & chilled crab pieces।

এই মডেলে পরিবহন অনেক সহজ, কারণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ফলে ক্ষতি বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম। এছাড়া হিমায়িত কাঁকড়ার শেলফ লাইফও অনেক বেশি। তবে এই ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হয়, যেমন ফুড প্রসেসিং লাইসেন্স ও HACCP certificate থাকা জরুরি।

Frozen crab এর দাম লাইভ কাঁকড়ার তুলনায় কিছুটা কম হলেও, বড় পরিসরে পাঠানো যায় বলে লাভের পরিমাণও ভালো হয়। সংক্ষেপে বলা যায় — নতুন উদ্যোক্তারা চাইলে ছোট পরিসরে জীবন্ত কাঁকড়া রপ্তানি শিখে শুরু করতে পারেন, আর অভিজ্ঞতা বাড়লে হিমায়িত বা প্রসেসড সেক্টরেও যেতে পারেন। দুটোই বাংলাদেশের জন্য বড় এক্সপোর্ট সুযোগ।

কাঁকড়া রপ্তানি শুরু করতে চাইলে প্রথম পরামর্শ হবে — ছোট চালান দিয়ে শুরু করুন। এতে আপনার ঝুঁকি কমবে, অভিজ্ঞতা বাড়বে, আর বায়ারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ছোট চালানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ। ৫০ থেকে ১০০ কেজির চালানে যদি কোনো কারণে সমস্যা হয় বা সামান্য ক্ষতি হয়, তা সহজেই সামলানো যায়। আর এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আপনি হাতে-কলমে শিখতে পারবেন কীভাবে পণ্য প্যাকেজ করতে হয়, কোল্ড চেইন বজায় রাখতে হয়, কাস্টমস ক্লিয়ার করতে হয়, আর বিদেশি বায়ারের সঙ্গে লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়।

প্রথম চালানটাই আসলে শেখার আসল ধাপ। একবার বায়ার আপনার পণ্য নিয়ে সন্তুষ্ট হলে, পরের অর্ডার দ্বিগুণ হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায়, প্রথম চালান ৮০ কেজি হলেও পরের বার সেটাই বেড়ে দাঁড়ায় কয়েকশো কেজিতে।

বায়ার খোঁজার জায়গাগুলোও এখন অনেক সহজ। অনলাইনেই পাওয়া যায় গ্লোবাল ক্রেতারা — যেমন Alibaba, Seafood Directory, বা বিভিন্ন B2B মার্কেটপ্লেস। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সি-ফুড ব্যবসায়ী নেটওয়ার্কগুলোতেও সরাসরি যোগাযোগ করা যায়। আর যারা সরাসরি আন্তর্জাতিক এক্সপো বা Seafood Trade Fair-এ অংশ নেন, তারা সহজেই নতুন বায়ার পেয়ে যান।

আজ যদি আপনি ৮০ কেজি কাঁকড়া রপ্তানি করতে পারেন, কাল হয়তো আপনার নিজের ব্র্যান্ডের কাঁকড়া সিঙ্গাপুরের কোনো রেস্টুরেন্টে থাকবে “Made in Bangladesh” ট্যাগসহ।

আর এখানে একটা বড় শিক্ষা লুকানো আছে, যেটা না মানলে বিপদ। কয়েক বছর আগে চীন হঠাৎ বাংলাদেশের কাঁকড়া-কুঁচে আমদানি বন্ধ করে দিয়েছিল, কারণ কিছু চালানে মান ঠিক ছিল না আর সার্টিফিকেটে গরমিল ছিল। এতে ৯ মাসে দেশের কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। পরে মান আর সার্টিফিকেশন ঠিক করে আবার রপ্তানি চালু হয়, চীন নির্দিষ্ট কয়েকটা কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়। মানে এই ব্যবসায় মান আর নিয়ম মানাটা ঐচ্ছিক না, এটাই টিকে থাকার শর্ত।

সফল রপ্তানির কৌশল

 1. লাইসেন্স ও অনুমোদন: কাকড়া রপ্তানি করতে হলে আপনারকে ইউডিএমও (Export Registration Certificate) এবং ফিশারিজ ডিপার্টমেন্ট থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
 2. লাইভ কনসেপ্ট: বিদেশি বাজারে কাকড়া সাধারণত লাইভ কন্ডিশনে রপ্তানি করতে হয়। তাই লাইভ স্টোরেজ, প্যাকেজিং ও দ্রুত এয়ার কার্গো পরিবহন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
 3. কোয়ালিটি চেক: সাইজ, ওজন, এবং স্বাস্থ্যকর অবস্থায় কাকড়া থাকতে হবে। এক্সপোর্টারের দায়িত্ব হলো প্রোডাক্টকে সঠিকভাবে সিলেক্ট ও গ্রেড করা।
 4. বায়ার নেটওয়ার্ক: আন্তর্জাতিক ফুড ট্রেড এক্সপো, B2B প্ল্যাটফর্ম (যেমন Alibaba, TradeIndia) এবং ইম্পোর্টার ডিরেক্টরি থেকে ক্রেতা খুঁজে বের করা যায়।
 5. কোল্ড চেইন সলিউশন: পরিবহনের সময় কাকড়াকে ঠাণ্ডা রাখতে হবে যাতে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মারা না যায়।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কক্সবাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ২০০৩ সালে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন ও চাষ বিষয়ে গবেষণা শুরু করে কক্সবাজার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুলে একটি প্রদর্শনী কেন্দ্রে ২০১৩ সালে সফলভাবে কাঁকড়া পোনা উৎপাদন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই চাষ ছড়িয়ে দেওয়া হয় উপকূলীয় অঞ্চলের চাষিদের মাঝে।

ব্যবসাপাথ (BebshaPath) পেজ অবলম্বনে- মুকুল মোহাম্মদ

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!