ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

ছয় লক্ষণে বুঝে নিন থাইরয়েডে ভুগছেন কিনা

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৩১, ২৫ মে ২০২১
ছয় লক্ষণে বুঝে নিন থাইরয়েডে ভুগছেন কিনা
থাইরয়েড। ছবি: সংগৃহীত

আমাদের শরীরের একটি গ্রন্থির নাম থাইরয়েড। এটি থাকে আমাদের গলার স্বরযন্ত্রের দুই পাশে। দেখতে প্রজাপতির ডানার মত। আর এর রঙ বাদামী। এই গ্রন্থির কাজ হলো আমাদের শরীরের কিছু অত্যাবশ্যকীয় হরমোন (থাইরয়েড হরমোন) উৎপাদন করা।  

শরীরের জন্য এই থাইরয়েড হরমোনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। নির্দিষ্ট মাত্রার থেকে কম বা বেশি হরমোন উৎপাদিত হলেই শরীরের উপর বিভিন্ন রকমের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে। থাইরয়েড হরমোন কম উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিসম এবং বেশি উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিসম।

থাইরয়েডে ভুগছেন কিনা বুঝে নিন ছয় লক্ষণে-

Advertisement

গলার স্ফীতি

থাইরয়েড হরমোনের অভাবে অর্থাৎ হাইপোথাইরয়েডিসমের কারণে গলা ফুলে উঠতে পারে। গলায় হাত দিয়ে কোনো অস্বাভাবিক ফোলা কিছু পেলে দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া উচিত। এছাড়াও থাইরয়েড হরমোনের অভাবে গলার স্বর কিছুটা কর্কশ বা গম্ভির হয়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা

সারাক্ষণ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা হাইপারথাইরয়েডিসম-এর লক্ষণ হতে পারে। হাইপারথাইরয়েডিসম হলো শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি থাইরয়েড হরমোন তৈরি হওয়া। সারাক্ষণ শরীরে অস্থির ভাব এবং বিশ্রামহীন বোধ হলে হাইপারথাইরয়েডিসমের সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা করানো দরকার।

ওজন পরিবর্তন

হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়া ওজন বেড়ে যাওয়াটা হাইপোথাইরয়েডিসমের কারণে হতে পারে। যদি খাওয়ার পরিমাণ না বাড়ানো সত্ত্বেও হঠাৎ করে ওজন পরিবর্তিত হয় তাহলে থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা করানো উচিত। একইভাবে যাদের হঠাৎ করেই বেশ খানিকটা ওজন কমে যায়, তাদেরও হাইপারথাইরয়েডিসম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অবসন্নতা

নিয়মিত শরীর অবসন্ন লাগার একটি অন্যতম কারণ হতে পারে হাইপোথাইরয়েডিসম। হাইপো থাইরয়েডিসম হলো শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কম থাইরয়েড হরমোন তৈরি হওয়া। সারা রাত পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও যদি সকালে অবসন্ন লাগে অথবা সারা দিন ধরে ঝিমুনি আসে তাহলে থাইরয়েড হরমোন ঠিক মতো কাজ করছে কিনা পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত।

চুলের সমস্যা

হাইপোথাইরয়েডিসম হলে অতিরিক্ত চুল পড়া, চুলের বৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতা বা আধিক্য, দুটিই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তবে সময় মতো সনাক্ত করতে পারলে নির্দিষ্ট মাত্রার ওষুধ খেয়ে পুরোপুরি সুস্থ থাকা সম্ভব। তাই থাইরয়েড হরমোন সমস্যার কোনো লক্ষণ দেখা গেলে তা অবহেলা করে ফেলে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

ত্বকের উপর প্রভাব

হাইপোথাইরয়েডিসমের কারণে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিসমের কারণে ঘাম কম হয় এবং ত্বক তার প্রয়োজনীয় আদ্রর্তা পায় না। ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। হাইপোথাইরয়েডিসমের রোগীদের মধ্যে নখ ভাঙ্গার বা নখে ফাটল ধরার প্রবণতাও বেশি।

উপরোক্ত লক্ষণগুলো অন্যকোনো শারীরিক সমস্যার কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই ডাক্তারের পরমর্শ এবং পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন।

সূত্র : জি নিউজ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!