সোশ্যাল মিডিয়ায় এরই মধ্যে মিউকরমাইকোসিস সম্পর্কে নানা মিথ্যা এবং অর্ধসত্য ছড়িয়ে পড়েছে। এসব তথ্য যেমন ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে, তেমনি মানুষ এসব মেনে বিপদেও পড়ছে। তাই এই রোগ সম্পর্কে সবারই জানা প্রয়োজন।
মিউকরমাইকোসিস কোভিডের মতো নয়। কোভিড হলো ভাইরাস নিউমোনিয়া। স্ট্রেপ্টোকোকাস নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়। তবে কোভিড অন্যভাবে নিউমোনিয়া করে, তার সঙ্গে কিছু আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্য আছে। অক্সিজেন সরবরাহের সময় বা হিউমিডিফায়ারের (বাতাসে জলীয় বাষ্প নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র) মাধ্যমে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে যে প্রচার চলছে, বিশেষজ্ঞদের মতে তা ‘ভিত্তিহীন’।
.png)
মূলত নাক ও চোখের মাধ্যমেই এই সংক্রমণ শরীরে প্রবেশ করে। তবে মিউকরমাইকোসিসে সবাই আক্রান্ত হবেন না। পাঁচ ধরনের মানুষ ছত্রাকজনিত এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন-
১. এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি।
২. শরীরে ক্যান্সার বাসা বাঁধলে।
৩. যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রয়েছে
৪. করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরও হতে পারে।
৫. স্টেরয়েড আসক্তদেরও হতে পারে। মানে নিজেদের সুন্দর দেখাতে স্টেরয়েড গ্রহণ করে, তাদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, একে প্রতিরোধ করার অন্যতম উপায় অনেক বেশি স্টেরয়েড ব্যবহার না করা। ঠিক মতো অক্সিজেন ব্যবহার করা। সাধারণ মানুষের জন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড না খাওয়া।
মিউকরমাইকোসিসকে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। শুধু সতর্ক থাকলেই হবে। এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বাসি খাবার খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। এমনকি দরকার না হলে স্টেরয়েড ও অক্সিজেন না দেয়ার মতো কাজগুলো করতে হবে।