পুনর্গঠন ও এআই বিনিয়োগের মধ্যে অ্যামাজনে ছাঁটাই
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে আবারও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এবার প্রতিষ্ঠানটির খুচরা ব্যবসা বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত প্রায় এক হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি। তবে অ্যামাজন সর্বশেষ ছাঁটাইয়ের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপকে তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের সাংগঠনিক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অ্যামাজনের দুই দিনব্যাপী বিশেষ বিক্রয় আয়োজন ‘প্রাইম বিগ ডিল ডেজ’ শুরু হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) এ আয়োজন শেষ হওয়ার কথা ছিল। বিশেষ ছাড়ে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির এ কর্মসূচি চলাকালেই নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর সামনে আসে।
অ্যামাজনের খুচরা ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘স্টোরস’-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ই-কমার্স ওয়েবসাইট পরিচালিত হয়। এক বিবৃতিতে অ্যামাজনের এক মুখপাত্র জানান, বিভাগের কিছু অংশে সাংগঠনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যবসার বর্তমান অগ্রাধিকারগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘স্টোরস’ বিভাগের একাধিক ইউনিটে ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে গ্রাহকসেবা এবং বিক্রেতা অংশীদারদের সহায়তা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত কর্মীরাও রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারত ও যুক্তরাজ্যে কর্মরত কিছু কর্মীও এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন বলে জানা গেছে।
একাধিক দফায় কর্মী কমিয়েছে অ্যামাজন
গত বছর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মীসংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে অ্যামাজন। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের একটি বড় প্রক্রিয়া শুরু করে, যা চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপরও বিভিন্ন বিভাগে সীমিত পরিসরে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) বিভাগের কর্মীরাও ছাঁটাইয়ের শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান জেফ বেজোসও আগের কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনলাইনে কেনাকাটার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কর্মী নিয়োগ করেছিল।
বেজোসের ভাষ্য অনুযায়ী, মহামারির সময় মানুষ ঘরে অবস্থান করে বিপুল পরিমাণ পণ্য অর্ডার করছিলেন। এতে অ্যামাজনের কার্যক্রমের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে দ্রুত কর্মী নিয়োগ করতে হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটিকে। পরবর্তী সময়ে সেই অতিরিক্ত জনবল সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়।
পুনর্গঠন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগে গুরুত্ব
ব্যবসার বিভিন্ন অংশে সাংগঠনিক পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে অ্যামাজন। প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, কাজের পদ্ধতি আরও কার্যকর করা এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে সর্বশেষ ছাঁটাইয়ে ঠিক কতজন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন, সে বিষয়ে অ্যামাজন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংখ্যা জানায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় এক হাজার কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।