ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

জনসনের টিকায় উপকারিতা বেশি: ইইউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ২১ এপ্রিল ২০২১
জনসনের টিকায় উপকারিতা বেশি: ইইউ
ছবি: সংগৃহীত

জনসন অ্যান্ড জনসনের কোভিড-১৯ টিকায় ঝুঁকির চেয়ে উপকারই অনেক বেশি বলে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ)। সেইসঙ্গে এই টিকা থেকে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঝুঁকি খুবই কম জানিয়ে এই উপসর্গকে ‘খুবই বিরল’ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে ধরে নেয়া উচিত বলছে সংস্থাটি।

এর আগে ইএমএ জনসন অ্যান্ড জনসনের কোভিড টিকার সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার উপসর্গ দেখা দেয়ার সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। এ বিষয়ে বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে জনসনের টিকা নেয়া ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের মধ্যে মাত্র ৮ জনের দেহে রক্ত জমাট বাঁধার এই বিরল উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে মারা গেছে একজন।

মঙ্গলবার ইএমএ এক বিবৃতিতে বলেছে, রক্ত জমাট বাঁধার উপসর্গকে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার খুব বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তালিকাতেই রাখা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাগুলো ঘটেছে টিকা নেয়ার তিন সপ্তাহ পর ৬০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে। তাদের বেশির ভাগই ছিল নারী।

Advertisement

সংস্থাটি বলছে, রক্তে প্লাটিলেট কম থাকার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার সম্পর্ক এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে। কিন্তু কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে মানুষের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি যতটা বেশি, টিকা গ্রহণের কারণে সেটা হওয়ার ঝুঁকির তার চেয়ে অনেক কম।

কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই ইএমএ বলছে, কারো দেহে একসঙ্গে প্লাটিলেট কম থাকার এবং টিকা গ্রহণের ফলে রক্ত জমাট বাঁধার উপসর্গ দেখা দেয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়া খুবই বিরল ঘটনা। তার ওপর সবচেয়ে বড় কথা, জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা গ্রহণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকির চেয়ে লাভ অনেক বেশি।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার উপসর্গ আর এখন জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার ক্ষেত্রে দেখা দেয়া সেই একই উপসর্গ খুবই বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকার মানে এই নয় যে টিকাগুলো অনিরাপদ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই টিকার সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে টিকা নিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাটা বেশি ভাল। আর যে কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা কিংবা টিকারই কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে।

ইএমএ রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে রক্ত জমাট বাঁধার কয়েকটি ঘটনা সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দেশটিতে জনসন অ্যান্ড জনসনের কোভিড-১৯ টিকা স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। যার ভিত্তিতে গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকা জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকাদান কার্যক্রম স্থগিত করে।

গত ৭ এপ্রিল ইএমএ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার বিষয়েও একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছিল। ওই সময়ে ইউরোপে আড়াই কোটির বেশি মানুষকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেয়া হয়। তাদের মধ্যে ৮৬ জনের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার বিরল উপসর্গ দেখা দেয়। পরে যুক্তরাজ্য সরকার ৩০ বছরের কম বয়সীদের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেয়া বন্ধ করে দেয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!