বিচারকরা প্রমাণ পেয়েছে, কঙ্গোর পূর্ব ইতুরি অঞ্চলে ১০-১৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী উগান্ডা। সেখান থেকে উগান্ডার সেনারা সোনা, হীরা এবং কাঠ লুট করেছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিচারে কঙ্গো ১১ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল তবে বিচারকরা তাদের দাবি খারিজ করে জরিমানা কমিয়ে দেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যানুযায়ী, আইসিজে উগান্ডাকে ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৬৫ মিলিয়ন ডলার করে পাঁচটি বার্ষিক কিস্তি পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে, যার প্রথম কিস্তি আগামী সেপ্টেম্বরে দিতে হবে। উগান্ডা যুক্তি দিয়েছিল, কঙ্গোর দাবিকৃত বিলিয়ন ডলার তাদের দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করবে। আদালত জানান, আদেশ হবে উগান্ডার অর্থ প্রদানের ক্ষমতার মধ্যেই।
.png)
রায়ে আদালত বলেছেন, ব্যক্তি এবং সম্পত্তির ক্ষতির জন্য কঙ্গোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের ফলে ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়ের ক্ষতির দায়ও দেশটিকে নিতে হবে।
আরো পড়ুন: ট্রাকচালকদের অবরোধে অচল অটোয়া, ট্রুডোর ক্ষোভ
কঙ্গো ১৯৯৯ সালে উগান্ডার বিরুদ্ধে এবং এর নাগরিকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসনের জন্য একটি মামলা দায়ের করে। এটি উগান্ডার সেনাদের বিরুদ্ধে লুটপাট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।
বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী কয়েক দশক ধরে খনিজ সমৃদ্ধ পূর্ব কঙ্গোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। ১৯৯০-এর দশকে উগান্ডা এবং রুয়ান্ডা থেকে সৈন্যরা দুবার তাদের বৃহত্তর প্রতিবেশী কঙ্গো আক্রমণ করেছিল। সরকারকে পতনের জন্য স্থানীয় মিলিশিয়াদের সাথে কাজ করেছিল তারা।
তারা যুক্তি দিয়েছিল, কঙ্গোতে তাদের সীমানা জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে হস্তক্ষেপ করেছিল। তবে দাবিটি মিথ্যা ছিল।
বলা হচ্ছে, আপিলের কোনো আশ্রয় ছাড়াই আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। কিন্তু বিশ্ব আদালতের রায় কার্যকর করার কোনো উপায় নেই। উগান্ডা যদি জরিমানা না পরিশোধ করে, তবে বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির কোনো উপায় আদালতের হাতে নেই।
সূত্র: বিবিসি