ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ মজার খবর ]

গিনেস বুকে স্থান পেল উগান্ডার ‘রোলেক্স’

মজার খবর ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:২৪, ২৯ জানুয়ারি ২০২২
গিনেস বুকে স্থান পেল উগান্ডার ‘রোলেক্স’
পূর্ব আফ্রিকার জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার রোলেক্স (ছবি: বিবিসি বাংলা)

বিশ্বের বৃহত্তম রোলেক্সের ওজন ২০৪.৬ কিলোগ্রাম এবং দৈর্ঘ্য ২.৩২ মিটার বা ১০ ফুট ৬ ইঞ্চি। ভাবছেন এতো ভারি ও লম্বা রোলেক্স ঘড়ি মানুষ হাতে পরবে কীভাবে? 

সুইজারল্যান্ডের পৃথিবী বিখ্যাত ব্র্যান্ড রোলেক্সের ঘড়ির গল্প এটি নয়। এই রোলেক্স হলো পূর্ব আফ্রিকার জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার রোলেক্স। সোজা কথায় ‘চাপাটিতে মোড়ানো ডিম ভাজি’। যা পাবেন উগান্ডায় রাস্তার ধারের দোকানগুলোতে।  

চাপাটিতে মোড়া নানাধরনের সবজি দিয়ে তৈরি ওমলেট সঙ্গে টমেটোর কুচি। সম্প্রতি গিনেস বুক উগান্ডার একটি রোলেক্সকে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করা রোলেক্সের মর্যাদা দিয়েছে।

Advertisement

বিশাল ওজনের এই রোলেক্স তৈরি করা হয়েছে  এক হাজার ২০০টি ডিম দিয়ে। তার সঙ্গে ৯০ কেজি ওজনের সবজি, পেঁয়াজ, টমেটো, বাঁধাকপি, গাজর আর ক্যাপসিকাম, ৭২ কেজি ওজনের ময়দা ও ৪০ কেজি রান্নার তেল।

আরো পড়ুন: ৯ বছর বয়সেই প্রাইভেট জেট ও সুপারকারের মালিক মোমফা

৯০ কেজি ওজনের সবজির কুচি মেশানো এক হাজার ২০০টি  ডিম ফেটাতে লাগানো হয়েছে ৬০ জন মানুষকে। উগান্ডার ইউটিউব তারকা রেমন্ড কাহুমা ডিম ভাজা ও চাপাটি বানানোর জন্য পাচকদের পরিচালনা করেছেন। ডিম ফেটানো, সবজি কাটা, ময়দা মাখা এবং ডিম ভাজার জন্য তাদের সময় লেগেছে ১৪ ঘণ্টা। সমস্ত আয়োজন করা হয়েছে রাজধানী কাম্পালার পূবে বাইরে অস্থায়ী এক রান্নাঘরে।

বিশাল এই রন্ধনযজ্ঞের চ্যালেঞ্জ কিন্তু ছিল ব্যাপক। এর সঙ্গে জড়িত ছিল একদিকে পদার্থবিদ্যায়, অন্যদিকে রন্ধনশৈলীতে পারদর্শিতা। এখানে তো শুধু রাঁধতে জানলেই চলবে না। ৭২ কেজি ওজনের ময়দা মাখা ডেলাটাকে কীভাবে না ভেঙে তাওয়ায় তোলা হবে, এমনকী প্রকাণ্ড রোলেক্সটাকে অক্ষত রেখে কীভাবে ওজনের জন্য দাড়িপাল্লায় তোলা হবে এসব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় পদার্থবিদ্যার জ্ঞানেরও প্রয়োজন ছিল।

কাহুমা ও তার দল এই বিশ্ব রেকর্ড গড়া রোলেক্স তৈরির সব কাজ যাতে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা যায় তা নিশ্চিত করতে কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

একই ধরনের একটি উদ্যোগ কিন্তু ভেস্তে যায় ২০২০ সালে। সেবার তিন হাজার ডলার খরচ হয়েছিল, জানান কাহুমা। হাল ছেড়ে দেয়া মানে নিজের কাছেই হার স্বীকার করা- এ কথাটি ইউটিউব চ্যানেলে জানিয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী কাহুমা। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র কাহুমা। কিন্তু পড়ালেখা শেষ করেননি তিনি।

আরো পড়ুন: গাড়ির চেয়ে ব্যাটারির দাম বেশি!

মনে করা হয়, উগান্ডার খাবারের মেন্যুতে রোলেক্স প্রথম জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যখন কাম্পালার মেকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীদের পেট ভরাতে একজন দোকানি এই খাবারটি প্রথম বিক্রি শুরু করেন। এরপর রোলেক্সের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে দেশটির বিভিন্ন শহরে।

উগান্ডায় রোলেক্স এখন খুবই জনপ্রিয় একটা নাস্তা। শহরের ফুটপাত এবং গাড়ি পার্কিং এর জায়গাগুলোয় প্রতিদিনই সন্ধ্যাবেলায় বসে দেশটির এই মুখরোচক চটজলদি নাস্তার অসংখ্য স্টল।

এখন উগান্ডার এই প্রচলিত ও মুখরোচক নাস্তা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাবার পর উগান্ডার মানুষের আশা বিশ্বের খাদ্যপ্রেমীদের তালিকায় এবার যোগ হতে চলেছে তাদের অতি জনপ্রিয় নাস্তা রোলেক্স।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএডি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!