ইউক্রেন ইস্যুতে ‘নিরপেক্ষ’ থাকায় চাপে ভারত
ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান যুদ্ধে নয়াদিল্লি স্পষ্ট কোন পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষ থাকায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদির সরকার।
সম্প্রতি ইউক্রেনে আগ্রাসনের প্রতিবাদে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাস করলেও ভারত প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইউক্রেনের এই সংকটের সমাধান করার আহ্বান জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি।
ভারত সরকার একাধিক বিবৃতি দিয়ে আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার গুরুত্বের কথা বললেও একবারও ইউক্রেনে সামরিক অভিযান নিয়ে মস্কোর সমালোচনা করেনি।
.png)
আরো পড়ুন>> নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে ৫ বিএসএফ সদস্য নিহত
বিবিসি বলছে, ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এবং রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছে ভারতের সরকার। ভারত যেসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে, তার প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করে মস্কো। বৈশ্বিক ইস্যুতে মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা রয়েছে ভারতের। কিন্তু একই সময়ে, বিশেষ করে গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এটা নিয়েই মূলত উভয়সংকটে রয়েছে ভারত।
ইউক্রেন ইস্যুতে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কো থেকে আসা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের বিবৃতি থেকে ভারত কতটা চ্যালেঞ্জে পড়েছে, সেটা বোঝা যায়।
আরো পড়ুন>> ইউক্রেন থেকে ভারতে ফিরলো আরও ১৮৩ শিক্ষার্থী
ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ শনিবার ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। একই সময়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ডোনাল্ড লু বলেছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতকে স্পষ্ট অবস্থান নেয়ার জন্য চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
বিবিসি বলছে, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জোটনিরপেক্ষ অবস্থান নেয়ার সুনাম আছে ভারতের। কিন্তু ইউক্রেনের চলমান এ সংকট ভারতকে আরও সংকটে ফেলবে।