ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

প্রকৌশলীদের ধর্মঘটে বিদ্যুতবিহীন শ্রীলংকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:৪৯, ৯ জুন ২০২২
প্রকৌশলীদের ধর্মঘটে বিদ্যুতবিহীন শ্রীলংকা
ছবি: প্রতীকী

সরকারের আরোপ করা নতুন নিয়মকানুনের বিরোধিতা করে ধর্মঘট শুরু করেছে শ্রীলংকার বিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলীদের ইউনিয়ন। আর এর জেরে বৃহস্পতিবার দেশটির বিশাল এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খেতে থাকা দেশটিতে এটি আরেক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শ্রীলংকার মূল বিদ্যুৎ কোম্পানি রাষ্ট্রায়ত্ত সিলন ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের (সিইবি) ১১০০ মতো প্রকৌশলীর মধ্যে প্রায় ৯০০ জন বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহর থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন। এর ফলে দেশটির ৮টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়; এ কেন্দ্রগুলোর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট।

স্বাধীনতার পর থেকে গত সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে সোয়া দুই কোটি জনসংখ্যার দেশ শ্রীলংকা। রেকর্ড মূল্যস্ফীতি ও জাতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের পাশাপাশি দেশটিতে জ্বালানি, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যাপক ঘাটতি চলছে। 

Advertisement

সিইবি’র প্রকৌশলী ইউনিয়নের ধর্মঘট ঠেকাতে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে বুধবার রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে জরুরি পরিষেবা ঘোষণা করে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন। এ আইনী নির্দেশনার ফলে প্রকৌশলীদের জন্য কাজের বিষয়ে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।

“প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে গভীর রাতে ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টকে ডেকেছিলেন এবং পুরো গ্রিড যেন বন্ধ না হয় সেজন্য অনুরোধ করেন। এ কারণে আমরা হাসপাতাল এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে কাজ করছি। কিন্তু ধর্মঘট চলবে,” বলেছেন ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব এরাঙ্গা কুদাহেওয়া।

আরো পড়ুন>> অবুঝ শিশুর গুলিতে প্রাণ গেল বাবার

নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক নিলামের উপর বিধিনিষেধ ‍তুলে নেয়াসহ শ্রীলংকার বিদ্যুৎখাত পরিচালনার আইন সংশোধনের সরকারি পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে প্রকৌশলীদের এ ইউনিয়ন।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানের জন্য নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দিকে ঝোঁকা শ্রীলংকার সরকার বলছে, আইন সংশোধন হলে তা প্রকল্পগুলোর দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সুযোগ করে দেবে।

শ্রীলংকার বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ পাবলিক ইউটিলিটিস কমিশনের চেয়ারম্যান জানাকা রত্নায়েকে বলেছেন, বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোর কিছু এলাকাসহ যেসব অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ সরবরাহ হয়, সেসব এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে।

“আমরা সেবাটি চালু করার জন্য কাজ করছি এবং জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলছি,” রয়টার্সকে বলেছেন রত্নায়েকে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি করতে না পারায় কয়েক মাস আগেও শ্রীলংকার বিস্তৃত এলাকাজুড়ে দীর্ঘসময় ধরে লোডশেডিং চলেছে। এখন বর্ষা মৌসুমে জলবিদ্যুৎতের উৎপাদন বাড়ায় পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি হয়েছিল।

সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!