ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ক্ষমতার পালাবদলে টিভি উপস্থাপক এখন শরণার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ২ আগস্ট ২০২২
ক্ষমতার পালাবদলে টিভি উপস্থাপক এখন শরণার্থী
শবনম দাওরান- ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোর সেনাবাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর আশরাফ গানি সরকারের পতন ঘটে। তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটিতে নারীদের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। কঠোর নিয়মের ফলে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত থাকা অনেক নারী বাধ্য হয়ে ছাড়তে হয়েছে সৌখিন পেশা। পেশা ছাড়া এমন একজন সংবাদ উপস্থাপক শবনম দাওরান।দেশটির ক্ষমতা পালাবদলের পর তাকে তার পেশা ছাড়াও  ছাড়তে হয়েছে দেশ।

নিজ দেশে আরাম-আয়েশে জীবনযাপন করলেও তিনি এখন যুক্তরাজ্যে শরণার্থী। সেই শরণার্থী জীবনের গল্প বিবিসির কাছে বলেছেন তিনি।

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট দেশটির রাজধানী কাবুলের উপকণ্ঠে পৌঁছায় তালেবান যোদ্ধারা। এমন পরিস্থিতিতে ২৪ বছর বয়সী শবনম সেই খবর জানাতে ‘অন-এয়ারে’ গিয়েছিলেন।

Advertisement

সাক্ষৎকার দিচ্ছেন শবনম- ছবি: সংগৃহীততখনকার পরিস্থিতি সম্পর্কে শবনম বলেন, আমি এতটাই আবেগপ্রবণ ছিলাম যে প্রধান সংবাদ পর্যন্ত পড়তে পারছিলাম না। যারা (দর্শক) বাড়িতে বসে আমাকে দেখেছেন, তারা বলতে পারবেন, আমি কি অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম। পরদিন সকালে শবনম যখন ঘুম থেকে ওঠেন, তখন তালেবানের হাতে কাবুলের পতন ঘটে গেছে।

কাবুল দখলের পর তালেবান ঘোষণা দেয় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করতে পারবেন। সেই আশায় পরদিন কাজের পোশাক পরে কর্মক্ষেত্রে যান তিনি। কিন্তু তিনি টিভি স্টেশনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তালেবান যোদ্ধাদের সামনে পড়ে এবং তারা শুধু পুরুষ কর্মীদের টিভি স্টেশনের ভবনে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছিলেন।

শবনম বলেন, একজন তালেবান যোদ্ধা তাকে বলেছিলেন, ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তানে এখনো নারীদের কাজের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

তখন শবনম বলেছিলেন, তার কাজ করার অধিকার আছে। ঠিক তখন এক তালেবান যোদ্ধা শবনমের দিকে রাইফেল তাক করেন। রাইফেলের ট্রিগারে আঙুল রেখে তিনি বলেন, আপনার জন্য একটি গুলিই যথেষ্ট। আপনি চলে যাবেন নাকি আমি আপনাকে গুলি করে দেব?

পরবর্তীতে তিনি এ ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করলে তার পরিবারের সদস্যরা হুমকির মধ্যে পড়েন। এরপর তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার এ অনিশ্চিত যাত্রায় সঙ্গী হন দুই ভাই-বোন-মিনা ও হেমাত।

ভাই-বোনের সঙ্গে শবনম- ছবি: সংগৃহীথযুক্তরাজ্যে পা রেখে নতুন ও কঠিন এক জীবনের মুখোমুখি হন শবনম। তার ইংরেজি জানা ছিল না। যার ফলে তাকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তার জন্য চাকরির সম্ভাবনাও সীমিত।

তবে, সবকিছু ছাপিয়ে বসবাসের জন্য একটি বাসা পেয়েছেন শবনম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের জীবন এখন শুরু হয়েছে। আমরা নতুন শিশুর মতো, যাদের শুরু থেকে শুরু করতে হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!