রোববার (১৪ আগস্ট) প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
হামলার কারণে ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেসে’র লেখক একটি চোখ হারাতে পারেন বলে আগে জানিয়েছিলেন তার এজেন্ট। রুশদির হাতের স্নায়ুও ছিঁড়ে গেছে। তার যকৃৎ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছিল। তবে ভেন্টিলেটর থেকে রুশদিকে বের করা হলেও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কেমন রয়েছে, এ ব্যাপারে বিশদে কিছু জানানো হয়নি।
.png)
শুক্রবার (১২ আগস্ট) নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে শতকা ইনস্টিটিউশনের মঞ্চে বক্তৃতা করতে ওঠার সময় হামলা চালানো হয় রুশদির ওপর। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মঞ্চে ওঠার সময় বুকারজয়ী ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই লেখকের উপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন হামলাকারী। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বেশ কয়েকবার ছুরির কোপ বসানো হয় লেখকের ঘাড়ে-বুকে-পেটে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এর পর রুশদিকে হেলিকপ্টারে করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
আরো পড়ুন>> ব্যাংক লুট করতে গিয়ে নিজের খোঁড়া সুড়ঙ্গেই আটকে গেল চোর!
রুশদির ২৪ বছর বয়সী হামলাকারী হাদি মাতারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তার জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক রাজ্যের শতকা কাউন্টির প্রসিকিউটর।
এ নিয়ে বিস্তর তদন্তে ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি ব্যাকপ্যাক এবং ইলেক্ট্রনিক্স পরীক্ষার জন্য সার্চ ওয়ারেন্ট পাওয়ার অপেক্ষা করছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’ লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। কেবল যুক্তরাজ্যেই বইটির দশ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়। তবে নিজের চতুর্থ বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ লেখার পর প্রায় দশ বছর পালিয়ে থাকতে হয় তাকে। উত্তরাধুনিক এই উপন্যাসটিকে ধর্ম অবমাননাকারী বলে মনে করেন বহু মুসলিম। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশেই বইটি নিষিদ্ধ।