ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

অভিবাসী শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে এবারের বিশ্বকাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:২৭, ২১ নভেম্বর ২০২২
অভিবাসী শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে এবারের বিশ্বকাপ
ছবি: সংগৃহীত

সদ্য শুরু হওয়া কাতার বিশ্বকাপের মধ্যে দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসেছে। যাদের শ্রম-ঘামে নির্মিত বিভিন্ন স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচগুলোর আয়োজন হচ্ছে মরুভূমির এই দেশটিতে, সেই অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য বিনা খরচে ম্যাচ উপভোগের ব্যবস্থা করেছে কাতার সরকার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে কাতারের রাজধানী দোহার একটি স্টেডিয়ামে জড়ো হন কয়েক হাজার অভিবাসী শ্রমিক। তারা ঘাসে ঢাকা মাঠে বসেছিলেন, অনেকে স্ট্যান্ড থেকে সেলফি নিচ্ছিলেন।

শহরের একপ্রান্তে একটি শিল্প এলাকায় স্থাপিত বিশেষ এই ফ্যান জোনটিতে বিশালাকার টিভি পর্দাসহ একটি স্টেডিয়ামও আছে। উপচে পড়া ভিড় সামলাতে বাইরেও একটি বিশাল টিভি পর্দা বসানো হয়েছে। এর লাগোয়া শ্রমিকদের বেশ কয়েকটি শিবির, এখানে কাতারের নিম্ন আয়ের কয়েক লাখ শ্রমিকের বাস।

Advertisement

২৫ বছরের বয়স্ক অভিবাসী শ্রমিক রোনাল্ড সিনয়োন্দো বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ দেখতে এসেছেন দোহা স্টেডিয়ামে। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এখানে আমাদের শ্রম-ঘামকে উপভোগ করতে এসেছি।’

জীবিকার সন্ধানে আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত দেশ উগান্ডা থেকে দু’ বছর আগে কাতারে আসেন রোনাল্ড। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে আসার পর থেকে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

আরো পড়ুন>> প্রথমবারের মতো মিলিট্যারি কমব্যাট ড্রোন তৈরি করল পাকিস্তান

রোনাল্ড জানান, তিনি এবং তার মতো অন্যান্য অভিবাসী শ্রমিকরা মরুভূমির তীব্র রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে নির্মাণ করেছেন কাতারের এক একটি স্টেডিয়াম।

‘আমার যে কী আনন্দ হচ্ছে, বোঝাতে পারব না,’ রয়টার্সকে বলেন রোনাল্ড।

কাতারের মোট জনসংখ্যা ২৯ লাখ এবং এই জনসমষ্টির মধ্যে বর্তমানে দেশটির আদি বাসিন্দাদের চেয়ে অভিবাসী লোকজনের সংখ্যা বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বলানিসমৃদ্ধ এই ধনী দেশটিতে এখন নির্মাণ-আবাসন-গৃহকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী পদেও রয়েছেন অভিবাসীরা।

বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, কাতারের সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো, বেতন বকেয়া রাখা ও তাদেরকে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে।

অবশ্য কাতারের সরকারের দাবি, দেশটির নতুন শ্রম আইনে ন্যূনতম মজুরি হিসেবে প্রতি মাসে ১ হাজার কাতারি রিয়াল (২৭৫ ডলার- ২৮ হাজার ৪৬০ টাকা) ধার্য করা হয়েছে এবং দেশের সর্বত্র এই আইন মেনে চলা হয়।

অভিবাসীরা যেন নিজেদের থাকা খাওয়ার খরচ মিটিয়ে দেশে কিছু টাকা পাঠাতে পারে, সেই বিবেচনাকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন এই বেতনকাঠামো চালু করা হয়েছে বলে সরকারের ভাষ্য।

আরো পড়ুন>> ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৬, আহত ৭ শতাধিক

কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি ম্যাচের টিকেটের মূল্য ২০০ ডলার। তবে শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত স্পেশাল ফ্যান জোনে বসে খেলা উপভোগ করতে আসা লোকজনদের কাছ থেকে টিকেটবাবদ কোনো অর্থ রাখা হচ্ছে না। বিনা খরচেই তারা ম্যাচ উপভোগ করতে পারছেন।

অবশ্য কোনো শ্রমিক যদি চান, সেক্ষেত্রে তিনি টিকেট কেটেও খেলা উপভোগ করতে পারবেন।

পাঁচ বছর ধরে কাতারে কাজ করা আলি জামাল (২৬) বলেন, ‘ইথিওপিয়ায় আমার বোন ও ভাইদের টাকা পাঠাচ্ছি আমি। টিকেটের দাম অনেক হওয়ায় এখানে এসেছি।’

এই জোনে উপস্থিত অল্প কয়েকজন নারীর একজন, এক নেপালি সেবিকা জানান, হাসপাতালে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ দেখতে পারবেন না তিনি।

চলতি বছরের প্রথমদিক থেকে কাতারে কাজ করতে থাকা ভারতীয় মোহাম্মদ আনসার (২৮) জানান, বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচে ভলান্টিয়ার হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন তিনি, তাই সেগুলো স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে সরাসরি দেখতে পাবেন।

ইকুয়েডরের কাছে ২-০ গোলে কাতারের হারে হতাশ হলেও রোববার সহকর্মীদের সঙ্গে ম্যাচটি দেখতে পেরে খুশি তিনি; রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘তারা গরিবদের কথাও বিবেচনা করেছে, এখানে বিনা খরচে খেলা দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!