ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ক্ষোভে ফুঁসছে চীনারা, বাড়ছে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৫, ২৭ নভেম্বর ২০২২
ক্ষোভে ফুঁসছে চীনারা, বাড়ছে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

করোনা সংক্রমণ বাড়ায় নতুন করে লকডাউন আরোপ করেছে চীন। তবে দেশটির রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন শহরে শুরু হয়েছে লকডাউনবিরোধী বিরল বিক্ষোভ।

চীনের জিনজিয়াংয়ে ভবনে অগ্নিকাণ্ডে আটকেপড়া ১০ জনের মৃত্যুর পর এ বিক্ষোভ শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা বিক্ষোভের ভিডিওতে দেখা যায়, লকডাউনের অবসানের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন লোকজন।

Advertisement

শুক্রবার রাতে জিনজিয়াংয়ের রাজধানী উরুমকিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার মানুষ। এ সময় তাদের ‘লকডাউনের অবসান চাই’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

ভিডিওতে লোকজনকে চীনের জাতীয় সংগীতের দাসত্ববিরোধী একটি লাইন গেয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। লকডাউন থেকে পরিত্রাণ চেয়ে জাতীয় সংগীতের ‘জেগে ওঠো, যারা দাস বানাতে চায়, তাদের প্রত্যাখ্যান করো!’ লাইনটি গাইতে শোনা যায়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ঐ ভিডিও ফুটেজের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছে, ভিডিওটি চীনের পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াংয়ের উরুমকিতে ধারণ করা হয়েছে। এইশহরের ৪০ লাখ বাসিন্দার বেশিরভাগই চীনের দীর্ঘতম লকডাউনের কবলে রয়েছে। এমনকি ১০০ দিনের বেশি ধরে তাদের বাড়ি ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

রাজধানী বেইজিং থেকে ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরের জিনজিয়াংয়ের উরুমকিতে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা সেখানে লকডাউবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করতে দেখা যায়। বিক্ষোভে অংশ নেয়া অনেকে লকডাউন নির্ধারিত সময়ের আগে তুলে নেয়ার দাবি জানান।

গত বৃহস্পতিবার জিনজিয়াংয়ের একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির পর সেখানে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ভবনটি লকডাউনের কারণে আংশিক তালাবদ্ধ থাকায় বাসিন্দারা অগ্নিকাণ্ডের সময় বের হতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। যে কারণে বিক্ষোভকারীদের মাঝে লকডাউনবিরোধী ক্ষোভ তীব্র হয়ে উঠেছে।

উরুমকির কর্মকর্তারা শনিবার সকালে আকস্মিক এক সংবাদ সম্মেলন করে জানান, লকডাউনের কারণে বাসিন্দাদের মৃত্যুর হয়নি।

উরুমকির এ বিক্ষোভের জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী বেইজিংয়েও। বেইজিংয়ের কিছু কিছু এলাকায়ও লোকজন লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন। সেখানকার বাসিন্দা সিন লি রয়টার্সকে বলেন, উরুমকির অগ্নিকাণ্ড দেশের সবাইকে মর্মাহত করেছে।

চলতি বছরের শুরুতে বিশ্বের অন্যান্য দেশ লকডাউন শিথিল করে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে গেলেও এখনো কঠোর করোনাবিধি চালু রেখেছে চীন। সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশ থেকে করোনা নির্মূলে ‘জিরো কোভিড’ নীতি নিয়েছে চীন।

রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন শহরে লকডাউনে ‘গৃহবন্দি’ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন ২ কোটি ১০ লাখেরও বেশি চীনা নাগরিক। গত কয়েক দিন ধরে দেশটিতে গড়ে ৩০ হাজারের বেশি করে মানুষের শরীরে করোনা শনাক্ত হচ্ছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে লকডাউন ও করোনা বিধিনিষেধ নতুন করে জারি করেছে চীন সরকার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!