ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের সীমানায় বৃহস্পতিবার তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো জানায়, আজ ভোরে জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনীর দখলদারিত্বের বুলেটে তিনজন নিহত হন।
.png)
এর আগে, ২৫ অক্টোবর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছিলেন আরো ১৯ জন। একইদিন রামাল্লায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আরেক ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ রামাল্লাতেই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদর দফতর অবস্থিত।
এর দু’দিন আগে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক ফিলিস্তিনি যুবককে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। সেসময় ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, পশ্চিম তীরের একটি চেকপয়েন্টে ঐ ফিলিস্তিনি যুবককে মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।
এছাড়া অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে অধিকৃত পশ্চিম তীরে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনার সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। এর আগে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে পশ্চিম তীরে তিন ফিলিস্তিনিকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল সম্প্রতি পশ্চিম তীরে একের পর এক রাত্রিকালীন অভিযান জোরদারের পর সেখানে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের অভিযান প্রায়ই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষের জন্ম দেয়।
চলতি বছর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি লড়াইয়ে ১২৫ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি হামলায় ইসরায়েলে ১৯ জন নিহত হওয়ার পর থেকে এ লড়াই আরো জোরালো হয়েছে।
১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে এবং এরপর থেকে সেখানে ১৩০টিরও বেশি বসতি তৈরি করেছে। এসব বসতির মধ্যে অনেকগুলো ছোট শহরের মতো। সেখানে অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক, শপিং মল ও শিল্প অঞ্চলসহ নানা স্থাপনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম তীরকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের প্রধান অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ফিলিস্তিনিরা। আর তাই সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ।