ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

মঙ্গলগ্রহের ধূলিঝড়ের শব্দ পাঠালো পারসিভিয়ারেন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:২৯, ১৪ ডিসেম্বর ২০২২
মঙ্গলগ্রহের ধূলিঝড়ের শব্দ পাঠালো পারসিভিয়ারেন্স
মঙ্গলযান পারসিভিয়ারেন্স- ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলের একটি প্রাচীন হৃদে কাজ করার সময় ধূলিঝড়ের শব্দ শুনতে পেয়েছে মঙ্গলযান পারসিভিয়ারেন্স। আর সেটি রেকর্ড করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে মঙ্গলযানটি। এর ফলে প্রথমবারের মতো মঙ্গলগ্রহের ধূলিঝড়ের শব্দ শুনতে পারে পৃথিবীবাসী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ধূলিঝড় মঙ্গলগ্রহে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। মঙ্গলের আবহাওয়ার ধরনের একটি অংশ এ ধূলিঝড়গুলো। মঙ্গলগ্রহের অন্যান্য অভিযান ধূলিঝড়ের চিত্র, আবহাওয়ার তথ্য ও ধূলিকণার পরিমাপ সংগ্রহ করা হয়েছিল। ধূলিঝড়ের  সিসমিক এবং ম্যাগনেটিক সিগন্যাল পর্যন্ত আগে রেকর্ড করেছে নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার। তবে এ ঝড়ের শব্দ এতদিন পর্যন্ত অধরা ছিল।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পারসিভিয়ারেন্স প্রথম মঙ্গলযান হিসেবে মাইক্রোফোনসহ অবতরণ করে মঙ্গলপৃষ্ঠে।   

Advertisement

নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়, রোবোটিক এক্সপ্লোরারের সুপারক্যাম মাইক্রোফোনটি ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এ ধূলিঝড়টি রেকর্ড করে। ঝড়টি সরাসরি এ মঙ্গলযানের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। 

ইউনিভার্সিটি অফ টুলুসের হাইয়ার ইন্সটিটিউট অফ অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেসের গবেষক ডক্টর নাওমি মারডক বলেন, ১১ সেকেন্ডের ক্লিপটিতে বাতাসের লো ফ্রিকোয়েন্সির শব্দের দুটি অংশ রয়েছে। মারডক বলেন, মাঝের নীরব সময়টাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে ছিল মহাকাশযানটি।  

১১ সেকেন্ডের ক্লিপে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের পাশাপাশি এতে ধূলিকণার বাড়ি খাওয়ার শব্দও শোনা গেছে।

মারডক বলেন, রোভারে আঘাত করা ধূলিকণার সংখ্যা গণনা করতে পেরেছেন গবেষকরা। মঙ্গলগ্রহে এটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি পরিমাপ। 

রোভার যেসব ছবি ও তথ্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছে সেগুলো থেকেও এ ধূলিঝড়ের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোভারের পাঠানো সমস্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলেন, ধূলিঝড়টির বিস্তৃতি ছিল ৮২ ফুট আর উচ্চতায় ছিল ৩৮৭ ফুট। মারডক বলেন, এটা মঙ্গলের গড়পড়তার একটা ঝূলিঝড়।

গবেষকরা ধারণা করছেন, ধূলিঝড়টি যখন পারসিভিয়ারেন্স রোভারকে অতিক্রম করে তখনো এটি পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ধূলিঝড় মঙ্গলগ্রহের আবহাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে মঙ্গলগ্রহে এর ভালো-খারাপ দুরকম প্রভাবই রয়েছে।  

মারডক বলেন, দিনের যে সময়টাতে ধূলিঝড় তৈরির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে, একটি সিঙ্গেল মাইক্রোফোনে ঐ সময় পর্যবেক্ষণে ২০০টির মধ্যে একটি ধূলিঝড়ের শব্দ রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে আমরা মনে করি। এক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই ভাগ্যবান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
ট্যাগ: মঙ্গলগ্রহ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!