যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স বিভাগের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ক্যাগরি কিলিক ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, মঙ্গলগ্রহে বতর্মানে মানবসৃষ্ট আবর্জনা ৭ হাজার ১১৮ কেজিরও বেশি জমেছে। গত ৫০ বছরে মঙ্গল অভিযানের অংশ হিসেবে পাঠানো বিভিন্ন নভোযান থেকে এসব আবর্জনার উত্পত্তি।
জাতিসংঘের আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্স কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত ৫০ বছরে মঙ্গলগ্রহের উদ্দেশে মোট ১৪টি ভিন্ন ভিন্ন অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে পাঠানো নভোযানের সংখ্যা মোট ১৮টি।
.png)
২০২২ সালের আগস্টের মাঝামাঝি নাসা ঘোষণা করে, মঙ্গলগ্রহে তাদের পাঠানো পর্যবেক্ষক রোবট পারসিভিয়ারেন্স মার্স রোভার গ্রহটিতে একটি বড় আকারের বাতিল জঞ্জাল খুঁজে পেয়েছে।
নাসার ঘোষণায় আরো বলা হয়- কেবল এ জঞ্জালই নয়, মঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় আরো যথেষ্ট পরিমাণে নভোযানের ধ্বংসাবশেষ ও আবর্জনা দেখতে পেয়েছে প্রিজার্ভেন্স মার্স রোভার।
ক্যাগরি কিলিক এনডিটিভিকে বলেন, মূলত বাতিল হার্ডওয়্যার ও নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংসপ্রাপ্ত নভোযানের কারণে মঙ্গলে মানবসৃষ্ট আবর্জনা জমছে। মঙ্গলপৃষ্টে এ পর্যন্ত যত নভোযান নেমেছে, সেসবের সুরক্ষায় সেসবের প্রতিটির সঙ্গে বিশেষ একপ্রকার মডিউল সংযুক্ত ছিল। অবতরণ সহজ ও নিরাপদ করতে প্রতিটি নভোযানেই হিট শিল্ড ও প্যারাসুটও ছিল। মঙ্গলে নামার পর এসব মডিউল, হিট শিল্ড ও প্যারাসুট আর কোনো কাজে আসে না। সেসব সেখানেই পড়ে থাকে।
এছাড়া এ পর্যন্ত যত নভোযান পাঠানো হয়েছে মঙ্গলে সেসবের মধ্যে অন্তত দু’টি গ্রহে নামার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়েছে উল্লেখ করে কিলিক বলেন, যেসব আবর্জনা গ্রহটিতে জমেছে। এতে আগামী অভিযানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে নাসার যে পারসিভিয়ারেন্স রোবটটিকে মঙ্গল অভিযানে পাঠানো হয়েছে, গতিপথে আবর্জনার সঙ্গে ধাক্কা লাগলে সেটিরও ক্ষতি হতে পারে।