কৃত্রিম ত্বক ব্যবহার করে সারানো হবে ক্ষত!
অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের জন্য ‘কৃত্রিম ত্বক’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে চিকিৎসাসামগ্রী উৎপাদনকারী ফরাসি প্রতিষ্ঠান উরগো। আগুনে পুড়ে যাওয়া অংশে কৃত্রিম ত্বক প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের জন্য একটি স্থায়ী সমাধান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষকেরা। এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জেনেসিস’।
বর্তমানে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের কষ্টকর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ‘ড্রেসিং’ করা হয়। একবার নয়, একাধিকবার এই কষ্ট সহ্য করতে হয়।
এই কষ্ট লাঘবে ১০ কোটি ইউরো ব্যয়ে ‘জেনেসিস’ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। দেড় বছর ধরে গবেষকেরা এ নিয়ে কাজ করছেন। তাদের আশা, ২০৩০ সালের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি তৈরি হবে।
.png)
কৃত্রিম ত্বক আবিষ্কারের এ চেষ্টাকে যুগান্তকারী বর্ণনা করে উরগোর গবেষণা পরিচালক লরেন্ট অ্যাপার্ট বলেন, এ শতাব্দীর শুরু থেকে আমরা অগ্নিদগ্ধ মানুষদের সারিয়ে তোলা নিয়ে কাজ করছি। ড্রেসিং খুবই দারুণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্ষত সারিয়ে তুলতে এটা বেশ কার্যকর। এটা অগ্নিদগ্ধ মানুষের অনেক উপকার করে।
আরো পড়ুন>> হোটেল থেকে পড়ে রুশ ধনকুবেরের রহস্যজনক মৃত্যু
তবে অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের সারিয়ে তোলার বিষয় নিয়ে আরো কার্যকর পদ্ধতি আবিষ্কারের চেষ্টা অনেকেই করছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা ড্রেসিংয়ের নতুন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এ পদ্ধতির মাধ্যমে রুপার ক্ষুদ্র কণা দেওয়া হয়, যা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ভেঙে দিতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, কৃত্রিম ত্বক আবিষ্কার হলে সবচেয়ে উপকৃত হবে শিশুরা। কারণ, অগ্নিদগ্ধ মানুষের বেশির ভাগ শিশু। ‘গ্লোবাল বার্ন রেজিস্ট্রি’ নামে বিশ্বে অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের যে হিসাব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) রাখে তাতে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে যারা অগ্নিদগ্ধ হয়, তাদের প্রায় অর্ধেকের বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।
প্যারিসের কুরি ইনস্টিটিউটের ক্ষত ও নিরাময় গবেষণা ইউনিটের প্রধান ইসাবেল ফ্রোম্যান্টিন বলেন, দুই দশক আগের তুলনায়, ক্ষতের যত্নের ক্ষেত্রে এখন রাত-দিন পার্থক্য চোখে পড়বে। তবে তার মতে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সব ক্ষত রাতারাতি সারানো যাবে না। নিরাময় প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিভেদে আলাদা। এটি বয়স ও স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ