সংগঠনটি জানায়, ২০০৩ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত গত ২০ বছরে বিশ্বব্যাপী এক হাজার ৬৬৮ জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
তার মধ্যে ২০১২ সালে ১৪৪ জন এবং ২০১৩ সালে ১৪২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এই দুই বছর সাংবাদিক হত্যা হয়েছে সর্বোচ্চ সংখ্যক।
.png)
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৩ থেকে ২০২২ এই দুই দশক ‘বিশেষত যারা তথ্যের অধিকারের পরিষেবায় নিয়োজিত, তাদের জন্য মারাত্মক দশক ছিল।’
আরো পড়ুন>> ভুত তাড়ানোর কথা বলে নারীকে ধর্ষণ
আরএসএফে’র মহাসচিব ক্রিস্টোফ ডেলোয়ার বলেন, ‘পরিসংখ্যানগুলোর পেছনে তাদের মুখ, ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা এবং প্রতিশ্রুতি রয়েছে যারা তথ্য সংগ্রহ, সত্যের সন্ধান এবং সাংবাদিকতার প্রতি আবেগের জন্য তাদের জীবন দিয়েছেন।’
সংগঠনটি জানিয়েছে, গত ২০ বছরে ইরাক ও সিরিয়ায় মারা গেছে ৫৭৮ জন সাংবাদিক। যা বিশ্বে নিহত সাংবাদিকের এক তৃতীয়াংশের কিছু বেশি। এর পরেই রয়েছে মেক্সিকো (১২৫), ফিলিপাইন (১০৭), পাকিস্তান (৯৩), আফগানিস্তান (৮) এবং সোমালিয়া (৭৮)।
গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে আরেকটি সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট (আইএফজে) জানিয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, হাইতিতে বিশৃঙ্খলা এবং মেক্সিকোতে অপরাধীগোষ্ঠীগুলোর দ্বারা ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ফলে গত বছর কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিক নিহতের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে।
আরো পড়ুন>> নতুন আশা নিয়ে নতুন বছর বরণ
আইএফজে জানিয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বে মোট ৬৭ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন। ২০২১ সালের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি।
আইএফজে'র বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশি গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। সেখানে মোট ১২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যা ২০২২ সালে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ইউক্রেনীয় সাংবাদিক; তবে বিদেশি কয়েকজন সাংবাদিকও ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন। তাদের প্রাণ গেছে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত বছরের ১১ মে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আল-জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ নিহতের বিষয়টিও প্রতিবেদনে রেখেছে আইএফজে।
আরো পড়ুন>> মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের দুই যাত্রীর হাতাহাতি
সাংবাদিক আবু আকলেহকে হত্যার ঘটনায় দায়ীদের ব্যাপারে তদন্ত ও বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে আল-জাজিরা নেটওয়ার্ক গত ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে।
আইএফজে জানিয়েছে, অন্তত ৩৭৫ জন গণমাধ্যমকর্মী কারাগারে রয়েছে। এই সংখ্যা ২০২১ সালের তুলনায় বেশি। আটকদের বেশির ভাগই চীন, মিয়ানমার, তুরস্ক, ইরান এবং বেলারুশের কারাগারে রয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের হত্যার সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনায় বিভিন্ন দেশের সরকারকে সাংবাদিকদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আরো দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইএফজে এবং অন্যান্য মিডিয়া অধিকার গোষ্ঠীগুলো।