শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থের ফেডারেল কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আনা মন্টেসের বর্তমান বয়স ৬৫ বছর। তিনি প্রায় দুই দশক কিউবার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন।
.png)
সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবরে বলা হয়, একজন গোয়েন্দা বিশ্লেষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কিউবান কর্তৃপক্ষের কাছে চার মার্কিন আন্ডারকভার এজেন্টের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া অতি সংবেদনশীল গোপনীয় তথ্যও ফাঁস করেন।
২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক বছর পর গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রের দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
তৎকালীন মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সালে মন্টেস বিচার বিভাগের ফ্রিডম ইনফরমেশন অফিসে কাজ করেন। সে সময় তিনি কিউবার গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারেন।
তাদের ধারণা, মন্টেসকে এমন এক সংস্থায় কাজ করতেন, যেখান থেকে তিনি কিউবার জন্য অধিক প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে পারেন।
১৯৮৫ সালে তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থায় যোগদান করেন। তখনো তাকে কিউবার সামরিক বাহিনীর ওপর একজন শীর্ষ বিশ্লেষক ধরা হতো। এমনকী তার কাজের জন্য তাকে পুরস্কৃতও করা হয়।
তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তিনি একটি দ্বীপে মার্কিন গোয়েন্দা অপারেশন সংক্রান্ত তথ্য প্রায় পুরোটা ফাঁস করে দিয়েছিলেন।
এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ধরা পড়া গুপ্তচরদের মধ্যে মন্তেস সবচেয়ে ক্ষতিকারক ছিলেন।
তৎকালীন জর্জ ডব্লিউ বুশের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্সের প্রধান মিশেলি ভ্যান ক্লিয়েভ কংগ্রেসকে ২০১২ সালে বলেন, আমরা কিউবা সম্পর্কে যা জানতাম এবং সে দেশে যা করেছিলাম, তার সবকিছুর সঙ্গেই মন্তেস আপস করে ফেলেছিলেন। এই কারণে কিউবা সতর্ক হয়ে যায়। এ ছাড়া তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে কিউবা সম্পর্কে অনুমানকে প্রভাবিত করতে পারতেন। তিনি প্রাপ্ত সব তথ্য অন্য শক্তিকে দিয়ে দিতেন।
স্নায়ুযদ্ধের সময় মন্তেস অন্যান্য হাই-প্রোফাইল গুপ্তচরদের মতো ধরা পড়ে যান। তিনি মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। এতে তার ব্যক্তিগত কোনো প্রাপ্তি ছিল না। লাতিন আমেরিকায় রিগ্যান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি কিউবার গোয়েন্দাদের জন্য কাজ করতে সম্মত হয়েছিলেন।