সম্প্রতি মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার একটি চিড়িয়াখানায় এই অভূতপূর্ব ঘটনাটি ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুমিরটি একটি ভ্রূণ তৈরি করেছে যেটির তার সঙ্গে জিনগত মিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
.png)
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশিষ্ট্যটি একটি বিবর্তনীয় পূর্বপুরুষ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া হতে পারে। ফলে ডাইনোসররাও স্ব-প্রজনন করতে সক্ষম হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন>> ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে পারে ন্যাটো: সাবেক প্রধান
বিষয়টিকে ‘উত্তেজনাকর আবিষ্কার’ আখ্যা দিয়ে গবেষকরা বলছেন, ঘটনাটি এটাই নির্দেশ করছে যে, কুমিরের বিবর্তনীয় পূর্বপুরুষেরা হয়তো স্বপ্রজননে সক্ষম ছিল।
পাখি, মাছ এবং অন্যান্য সরীসৃপ প্রজাতির মধ্যে তথাকথিত ‘কুমারী অবস্থায় জন্মদান’ এর ঘটনার কথা শোনা গেছে, তবে কুমিরের মধ্যে এমন ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি।
জানা যায়, কুমারী অবস্থায় ছানার জন্ম দেয়া আমেরিকান কুমিরটিকে ২০০২ সালে দুই বছর বয়সে বন্দি করে কোস্টারিকায় একটি চিড়িয়াখানার ঘেরে রাখা হয়েছিল। পরে টানা ১৬ বছর ওই ঘেরে একা একাই অবস্থান করছিল কুমিরটি।
২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে চিড়িয়াখানার কর্মচারীরা ঘেরের মধ্যে ১৪টি ডিম আবিষ্কার করেন। ডিমগুলো না ফুটলেও একটিতে সম্পূর্ণরূপে গঠিত ভ্রূণ ছিল। পরে ওই ভ্রূণের জেনেটিক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়-এর মধ্যে কোনো পুরুষের সংস্পর্শ নেই।
আরো পড়ুন>> মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ
ওই ভ্রূণ থেকেই কুমিরের ছানাটি সম্প্রতি বেরিয়ে এসেছে। বিজ্ঞানীরা বিশ্লেষণ করে দেখেন, জেনেটিকভাবে মায়ের সঙ্গে এটির ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশের বেশি মিল রয়েছে, যা নিশ্চিত করে যে এর কোনো বাবা নেই।
পার্ক রেপ্টিলানিয়ার বৈজ্ঞানিক দল বেলফাস্টে জন্মগ্রহণকারী ডাঃ ওয়ারেন বুথের সঙ্গে যোগাযোগ করেন যিনি ১১ বছর ধরে কুমারী জন্ম নিয়ে গবেষণা করছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি অবাক হননি। বলেন, আমরা এটি হাঙ্গর, পাখি, সাপ এবং টিকটিকিতে দেখতে পাই এবং এটি উল্লেখযোগ্যভাবে সাধারণ এবং ব্যাপক।