ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

নোবেল জয়ের কল পেয়ে অ্যান বললেন ‘আমি ব্যস্ত, ক্লাস নিচ্ছি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৬, ৪ অক্টোবর ২০২৩
নোবেল জয়ের কল পেয়ে অ্যান বললেন ‘আমি ব্যস্ত, ক্লাস নিচ্ছি’
ছবি: সংগৃহীত

ইলেক্ট্রন গতিবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ ফর্মুলা আবিষ্কার করে চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তাদের মধ্যে একজন সুইডেনের লুন্ড ইউনির্ভাসিটির প্রফেসর অ্যান ল'হুইলিয়ার।

মঙ্গলবার নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে অ্যানকে যখন  কল দেওয়া হয় তখন তিনি ক্লাসে ব্যস্ত ছিলেন। একাধিক কল দেয়ার পরেও ক্লাস চলাকালীন কল রিসিভ করেননি তিনি। ক্লাস বিরতিতে আবার কল এলে তিনি রিসিভ করেন। নোবেল কর্তৃপক্ষ থেকে অ্যাডাম স্মিথ নামের এক ব্যক্তি অপর প্রান্ত থেকে কথা বলার জন্য সময় চান।

অ্যান জানান, আমি একটু ব্যস্ত, ক্লাস নিচ্ছি। কল দেয়া সেই ব্যক্তি তার কাছ থেকে দুই থেকে তিন মিনিট সময় দেয়ার অনুরোধ জানালে কথা বলার সম্মতি দেন প্রফেসর অ্যান ল'হুইলিয়ার। পরে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে নোবেল পুরষ্কার জয়ের সংবাদ দেন কলদাতা অ্যাডাম স্মিথ। প্রতিউত্তরে অ্যান ল’হুলিয়ার তাকে ধন্যবাদ জানান।

অ্যাডাম স্মিথ অ্যানের কাছে জানতে চান যে, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের তিনি এই সুখবরটি দেবেন কিনা। তখন অ্যান বলেন, তাদেরকে অবশ্যই জানাবো। তারা জানলে আশা করি অনেক খুশি হবে। এটা অবশ্যই তাদের জন্য অনেক মজাদার বিষয় হবে।

তবে অ্যান আরো জানান, শিক্ষার্থীদের খবর দেওয়ার পর দ্রুত আবার লেকচারে ফিরে যেতে হবে।

অ্যানের বিষয়টি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছে নোবেল কমিটি। সেখানে লেখা হয়েছে, একজন নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকের গল্প! পদার্থবিজ্ঞানে ২০২৩ সালের নোবেল পুরস্কার পাওয়া অ্যান ল’হুলিয়ারকে তার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আলাদা করা যায়নি। যখন আমাদের নতুন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীকে কল দেয়া হয় তখন তিনি লুন্ড ইউনিভার্সিটিতে লেকচারে ব্যস্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এক পর্যায়ে তিনি লক্ষ করেন তার ফোনে একাধিক মিস কল রয়েছে। অতঃপর ক্লাস বিরতিতে ফোন রিসিভ করেন তিনি। তবে পুরস্কারের খবরের পর, ল’হুলিয়ার পুনরায় তার শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরে যান।

অ্যান ল’হুলিয়ারকে পুরস্কারের সংবাদ দেয়ার সেই ফোন কলের রেকর্ডটিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের নোবেলজয়ী পদার্থবিদরা অল্প সময়ের আলোকস্পন্দন তৈরির উপায় বের করেছেন। স্পন্দনের সময়টি এতটাই ক্ষুদ্র যে, এর মাধ্যমে ইলেকট্রনের দ্রুত বেগে নড়াচড়ার ছবিও তোলা যায়। গ্যাসের ভেতরকার পরমাণুর সঙ্গে লেজার লাইটের মিথস্ক্রিয়ায় সৃষ্ট নতুন এক ধরনের প্রভাব আবিষ্কার করেন ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী অ্যান ল’হুইলিয়ার। পিয়েরে অ্যাগোস্টিনি ও ফেরেঙ্ক ক্রাউস দেখিয়েছেন, আগে যত স্বল্প সময়ে আলোক স্পন্দন বা পালস তৈরি করা সম্ভব বলে মনে হয়েছিল, তার চেয়েও ছোট স্পন্দন তৈরি করা সম্ভব।

রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি বলেছে, এই বিজ্ঞানীরা পরমাণু এবং অণুর ভেতরে ইলেকট্রনের জগত অন্বেষণে বিশ্বমানব সভ্যতাকে নতুন পথ দেখিয়েছেন।

আশা করা হচ্ছে, এই আবিষ্কারটির মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনিক্সকে আরো ভালোভাবে বোঝা এবং রোগ নির্ণয়ের নতুন দিক উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে, উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদন বা সালোকসংশ্লেষণের মতো জৈবিক প্রক্রিয়াগুলোকে আরো বিশদভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!