ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

মস্কোতে সন্ত্রাসী হামলায় আসলে দায়ী কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩:৫৪, ২৪ মার্চ ২০২৪
মস্কোতে সন্ত্রাসী হামলায় আসলে দায়ী কে?
ফাইল ছবি

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪৩। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলার দায় স্বীকার করলেও রাশিয়া দাবি করেছে, এই হামলার সঙ্গে ইউক্রেন জড়িত। অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে কিয়েভ।

শনিবার (২৩ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, হামলাকারীরা ইউক্রেন সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তারা ইউক্রেনে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে। প্রাথমিক তথ্যে জানা যাচ্ছে, হামলাকারীদের ইউক্রেনে সরিয়ে নেয়ার জন্য সীমান্তে প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল।

পুতিন আরো বলেন, চার অস্ত্রধারীসহ হামলাকারীদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

তবে হামলার পরপরই দায় স্বীকার করে আইএস জানিয়েছিল, তাদের ‘যোদ্ধারা’ মস্কোর উপকণ্ঠে একটি বড় জমায়েতে হামলা চালিয়েছেন। এরপর নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরেছেন তারা।

মস্কোর হামলা নিয়ে গতকাল এক বিবৃতিতে আইএস বলেছে, হামলায় তাদের চার যোদ্ধা অংশ নেন। আইএস ও ইসলামবিরোধী দেশগুলোর চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে মস্কোর হামলায় তাদের কোন শাখা জড়িত ছিল, বিবৃতিতে তা খোলাসা করা হয়নি।

শুক্রবার রাত আটটার দিকে মস্কোর শহরতলির ক্রোকাস সিটি হলে ঢুকে সেখানে সমবেত লোকজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে এক দল বন্দুকধারী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। তাদের মধ্যে হামলায় অংশ নেয়া চার অস্ত্রধারীও রয়েছেন।

রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানায়, চার অস্ত্রধারী রাশিয়ার নাগরিক নন। তারা সবাই বিদেশি।

সোভিয়েত আমলের ব্যান্ড দল পিকনিক-এর কনসার্ট দেখতে ক্রোকাস সিটি হলে সমবেত হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। এ সময় মুখোশ পরা এক দল বন্দুকধারী সেখানে হামলা চালায়।

রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি জানিয়েছে, হামলার পরপরই সন্ত্রাসীরা রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের দিকে পালিয়ে যান। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সংস্থাটির মতে, ইউক্রেনের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগাযোগ ছিল। তবে এ নিয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলেনি সংস্থাটি। রাশিয়ার কিছু আইনপ্রণেতাও দাবি করছেন, এ হামলার সঙ্গে কিয়েভ জড়িত।

রাশিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য আন্দ্রে কারতাপোলভ বলেন, এ হামলার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি স্বার্থ হাসিল হয়েছে সম্ভবত ইউক্রেন ও তাদের মদদদাতাদের।

তবে কিয়েভ দাবি করছে, এ হামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। রাশিয়ার অভিযোগের পর গতকাল এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেন, ‘এই হামলায় ইউক্রেনের কিছুই করার নেই। রাশিয়ার সঙ্গে দেশ হিসেবে আমাদের সর্বাত্মক যুদ্ধ চলছে।’

ক্রেমলিন জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। হামলায় আহত শতাধিক ব্যক্তি এখনো হাসপাতালে ভর্তি। রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাতে গতকাল রাতে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো ক্রোকাস সিটি হলে আগুন নেভানোর খবর জানিয়েছে।

রাশিয়ায় বড় বড় অপরাধের বিষয়গুলো তদন্ত করে থাকে দেশটির ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি। গতকাল রাতে সংস্থাটি বিবৃতিতে জানায়, এ পর্যন্ত ১৩৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, ছয় হাজার আসনবিশিষ্ট হলটিতে কনসার্ট উপভোগ করতে ধারণক্ষমতার বাইরে লোকজন জড়ো হন। ফলে বন্দুকধারীদের গুলি ছাড়াও আগুন, ছাদ ধসে এবং দম বন্ধ হয়েও অনেকে মারা গেছেন। কারণ, এলোপাতাড়ি গুলির পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা দাহ্য তরল পদার্থ দিয়ে হল প্রাঙ্গণে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন দ্রুত পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র: এএফপি

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!