ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া নিয়ে যা বললো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৫৪, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া নিয়ে যা বললো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
ফাইল ফটো

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ‘বুলডোজার জাস্টিস’-এর কঠোর সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছে কীভাবে একটি বাড়ি শুধুমাত্র একজন অভিযুক্ত বা ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তির মালিকানাধীন হওয়ার কারণে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়ার আগে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশিকা মেনে চলার প্রস্তাবও দেয় আদালত।

আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত হয়ে সিনিয়র অ্যাডভোকেট দুষ্যন্ত দাভ জানান, সারাদেশে ‘বুলডোজার জাস্টিজ’ যাতে প্রয়োগ না করা হয় তা নিশ্চিত করার জন্য আদালতের একটি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চকে সম্বোধন করে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উত্থাপন করেন, অভিযুক্ত একটি ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে কোনও স্থাবর সম্পত্তি ধ্বংস করা যাবে না। এই ধরনের ধ্বংস শুধুমাত্র তখনই ঘটতে পারে যদি স্থাপনাটি অবৈধ হয়।

Advertisement

সলিসিটর জেনারেল অবশ্য যুক্তি দিয়েছেন যে বিষয়টি আদালতের সামনে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।বিচারপতি বিআর গাভাই বলেন, আপনি যদি এটা মেনে নেন, তাহলে আমরা এর ভিত্তিতে নির্দেশিকা জারি করব। আদতে কি ধ্বংস করা যেতে পারে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্থাপনা।

যদি স্থাপনাটির নির্মাণ অননুমোদিত হয় সেক্ষেত্রে জরিমানা হতে পারে ধারাবাহিক। আমরা একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করব। আপনি বলছেন শুধুমাত্র পৌর আইন লঙ্ঘন হলেই ভেঙে ফেলা হবে। নির্দেশিকা প্রয়োজন, এটি নথিভুক্ত করা প্রয়োজন, এমনটি জানিয়েছে বেঞ্চ।

বিচারপতি বিশ্বনাথন জিজ্ঞাসা করলেন কেন এই ধরনের মামলা এড়াতে নির্দেশ দেয়া যাবে না। ‘প্রথম ইস্যু নোটিশ, উত্তর দেওয়ার জন্য সময় দিন, আইনি প্রতিকারের জন্য সময় দিন, এবং তারপর গুঁড়িয়ে দেয়ার প্রশ্ন উঠবে।

এসময় বেঞ্চ জোর দিয়ে বলে, তারা অবৈধ স্থাপনাকে রক্ষা করছে না। বিচারপতি বলেন, আমরা কোনো অবৈধ স্থাপনাকে রক্ষা করব না যা জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাকে বাধা দেয়, সেটি যদি মন্দিরও হয়ে থাকে। তবে ধ্বংসের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা উচিত।

সিনিয়র আইনজীবী দুষ্যন্ত দাভ এবং সিইউ সিং আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত হয়ে দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরীতে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাড়া দেয়া সম্পত্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তারা ৫০-৬০ বছরের পুরোনো বাড়ি ভেঙে দিয়েছে কারণ মালিকের ছেলে বা এর ভাড়াটে অপরাধের সঙ্গে জড়িত, যোগ করেন সিং।

রাজস্থানের উদয়পুরে একটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হয় এই অভিযোগে যে সেখানে বসবাসকারী এক ছাত্র তার সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত করে। বিচারপতি বিশ্বনাথন বলেন, ‘যদি একজন মানুষের ছেলে উপদ্রবকারী হয়, তাহলে তার বাড়ি ভেঙে দেয়া ন্যায়সঙ্গত বা সঠিক পদ্ধতি হতে পারে না।’

আদালত বলেছে যে ১৭ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে আবার শুনানি করবে। এই সমস্যাটি মোকাবেলা করার জন্য সব ধরনের পরামর্শকে তারা সাদরে বিবেচনায় নেবে। বিচারপতি গাভাই বলেছেন, উত্তর প্রদেশ সরকারের একটি হলফনামায় বলা হয়েছে, স্থাবর সম্পত্তি শুধুমাত্র আইন দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত একটি পদ্ধতি মেনে ধ্বংস করা যেতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!