ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

গাজায় স্কুলে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণ, ১৫ শিশুসহ নিহত ২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:২৩, ১৪ অক্টোবর ২০২৪
গাজায় স্কুলে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণ, ১৫ শিশুসহ নিহত ২২
ফাইল ফটো

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার কেন্দ্রীয় নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি স্কুলে ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জনই শিশু। হামলার শিকার স্কুলটি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিলো।

রোববার (১২ অক্টোবর) এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

স্থানীয়রা জানিয়েছে, শেইখ রদওয়ান পাড়ার কিছু অংশে ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু হওয়ায় অনেক পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

Advertisement

এদিকে উত্তর গাজায় অভিযান সম্প্রসারণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এরই মধ্যে উত্তরের প্রান্তে পৌঁছে গেছে তাদের ট্যাংক। সেখানকার বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার ভোরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছে। কেন্দ্রীয় গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের আল-আকসা হাসপাতালে কিছু আশ্রয়কেন্দ্রে হামলাটি চালানো হয়েছে। হাসপাতালে প্রায় ১০ লাখ লোক আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলায় কয়েকটি তাঁবুতে আগুন লেগে যায় এবং কিছু ফিলিস্তিনি আগুন নেভানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হাসপাতালের ভিতরে একটি কমান্ড সেন্টার থেকে পরিচালিত হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে,ইসরায়েলি বাহিনী কার্যত বেইত হানুন, জাবালিয়া এবং বেইত লাহিয়া এলাকাগুলোকে গাজা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।

গত নয় দিন ধরে গাজার উত্তর চলা ইসরায়েলের এই অভিযানে অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েল বেসামরিক বাড়িঘর এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে যাতে এলাকাবাসীকে চিরতরে গাজা থেকে বিতাড়িত করা যায়।

মূল হামলাটি উত্তরাঞ্চলে হলেও ইসরায়েল গাজার অন্যান্য এলাকাতেও আক্রমণ চালাচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪ জন নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত সহায়তা প্রধান জয়েস মুসিয়া বলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, ‘উত্তর গাজায় যা ঘটছে তা ভাষায় প্রকাশের মতো নয়।’

‘ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা বাড়ছে। হাসপাতালগুলো রোগীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষকে জোর করে বাস্তুচ্যুত, সাহায্য থেকে বিচ্ছিন্ন এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হচ্ছে। এই নৃশংসতা শেষ করতে হবে’, বলেও লিখেছেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে জাবালিয়ার অনেক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন: ‘আমরা যাব না, আমরা মরব,কিন্তু কোথাও যাব না।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!