ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

‘সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, ওকে বাঁচান’, আর্জি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিমিশার মায়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:২৩, ১ জানুয়ারি ২০২৫
‘সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, ওকে বাঁচান’, আর্জি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিমিশার মায়ের
নিমিশা প্রিয়া

সোমবার ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সিলমোহর দিয়েছেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি। সেই থেকে আলোচনার কেন্দ্রে ইয়েমেন অভিবাসী ভারতীয় তরুণী। এক মাসের মধ্যে নিমিশার সাজা কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আদালত। সেই আবহেই এবার মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে আর্জি জানালেন নিমিশার মা।

মঙ্গলবার ইয়েমেন থেকে নিমিশার মা প্রেমা কুমারী হাতজোড় করে বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত সব রকমের সাহায্য করার জন্য ভারত সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাও শেষবারের মতো অনুরোধ করছি, কিছু করুন। ওকে বাঁচান। সময় ফুরিয়ে আসছে, দয়া করে ওকে বাঁচান। এটাই আমার শেষ আবেদন।’

মেয়ের মুক্তির জন্য গত কয়েক বছর ধরে সব রকম চেষ্টা করছেন নিমিশার মা। 

Advertisement

মেয়ের মুক্তির জন্য নিহতের পরিবারকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সে জন্য চলতি বছরেই জমিবাড়ি বিক্রি করে ইয়েমেনে চলে গিয়েছেন তার মা। কিন্তু লাভ হয়নি। ক্ষতিপূরণ নয়, নিমিশার শাস্তিই চেয়েছেন নিহতের পরিবার।
 
এ বিষয়ে মঙ্গলবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়। জানানো হয়েছে, সরকারের তরফে এ বিষয়ে যথাসাধ্য সাহায্য করা হবে। খুনের দায়ে অভিযুক্ত নিমিশার মুক্তির দাবিতে ইয়েমেন অভিবাসী ভারতীয়দের একাংশ মিলে ‘সেভ নিমিশা প্রিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকশন কাউন্সিল’ নামে একটি সংগঠন খুলেছেন। তারাও নিমিশার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিদেশে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

২০১৭ সালে ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আব্দো মাহদি নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ইয়েমেনের আদালত। মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয় তার। এই সাত বছরে পরিবারের তরফে ৩৬ বছর বয়সি নিমিশাকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করা হয়েছে। শেষ চেষ্টা হিসাবে ‘দিয়া’ (নিহতের পরিবারের নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অঙ্ক) দিয়েও মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন নিমিশার মা। কিন্তু কিছুতেই চিঁড়ে ভেজেনি।

উল্লেখ্য , কেরালার পালাক্কড় জেলার বাসিন্দা নিমিশা পেশায় একজন নার্স ছিলেন। স্বামী এবং মেয়েকে নিয়ে থাকতেন ইয়েমেনে। ২০০৮ সাল থেকে ইয়েমেনের এক হাসপাতালে কাজ করতেন নিমিশা।

২০১৪ সালে তার স্বামী এবং ১১ বছরের কন্যা ভারতে ফিরে এলেও তিনি সে দেশেই থেকে যান। স্বপ্ন ছিল নিজের ক্লিনিক খোলা। ঐ বছরই মাহদির সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। মাহদি তাকে নতুন ক্লিনিক খুলতে সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দেন। ২০১৫ সালে দু’জন মিলে ক্লিনিকও খোলেন।

এরপর থেকেই শুরু হয় দুই অংশীদারের মতবিরোধ। অভিযোগ, এক পর্যায়ে নিমিশার পাসপোর্টও কেড়ে নেন মাহদি। একাধিক বার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও লাভ হয়নি।

ক্ষোভে ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই মাহদিকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেন ঐ নার্স। নিমিশার দাবি, মাহদিকে ঘুম পাড়িয়ে নিজের পাসপোর্ট পুনরুদ্ধার করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। কিন্তু ওভারডোজের কারণে মৃত্যু হয় মাহদির। এরপর অন্য এক জনের সাহায্য নিয়ে মাহদির মরদেহ টুকরো টুকরো করে কেটে পানির ট্যাঙ্কে ফেলে দেন তিনি। ইয়েমেন থেকে পালানোর সময় ধরা পড়ে যান। ২০১৮ সালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ইয়েমেনের আদালত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!