এই ঈদে ‘চিরকাল আজ’ ও ‘পুণর্জন্ম’ নাটকের মধ্য দিয়ে আবারো এসেছেন আলোচনায়। নাটকের নানান দিক নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ডেইলি-বাংলাদেশ-এর সঙ্গে। তার সাক্ষাতকার নিয়েছেন ইসমাইল উদ্দীন সাকিব।
এতো দারুণ গল্প মাথায় কিভাবে আসে?
ভিকি জাহেদ: আমার নিজস্ব একটা ধরণ রয়েছে। প্রথমে থিম সিলেক্ট করে তা নিয়ে খুটিনাটি বিস্তারিত জেনে নিই। এরপর কাজ শুরু করি। যেমন ‘চিরকাল আজ’ ছিল অ্যামনেশিয়া নিয়ে। এ বিষয়ের ওপর যেহেতু আগে অনেক কাজ হয়েছে, তাই চেষ্টা করেছি ভালোভাবে জেনে নিয়ে এমনেশিয়াকে ভিন্নভাবে তুলে ধরতে।
.png)
আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কারা?
ভিকি জাহেদ: আমি কাজ করছি দর্শক পরিবর্তনের জন্য। তরুণদের বাইরে আমাদের যে বিশাল দর্শকরা আছেন, তারাও নিয়মিত ভালো কিছু দেখতে চান। অথচ তাদের উপযোগী কাজ হয় কম। বর্তমানের বেশিরভাগ নাটকই একই ঘরাণার। অথচ আমাদের ছোটবেলায় সবাই মিলে টিভিতে নাটক দেখতাম। ভিন্ন ভিন্ন গল্পে তখন নাটক হতো। গত কয়েক বছরে এ ধরণের কাজ না হওয়ায় নাটকের দর্শক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। তাই আমি ভিন্ন স্বাদের কাজ করার চেষ্টা করছি। যাতে নাটকের সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে পারি।

বিগত কয়েক বছরে বেশ কিছু নাটক দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। আমরা কি আস্তে আস্তে নাটকের সেই হারানো গৌরবময় দিনে ফিরে যাচ্ছি?
ভিকি জাহেদ: মূলত করোনা পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু ভালো কাজ হয়েছে। ঈদেও কিছু দারুণ কাজ হয়েছে। দেশের বাইরেও কলকাতায় আমাদের নাটকের প্রচুর দর্শক রয়েছে। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, আমরা অবশ্যই সেই সময়ে ফিরে যেতে পারবো।
আমাদের ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর কি বিশ্বমানের হওয়া সম্ভব?
ভিকি জাহেদ: অবশ্যই, আমাদের সে সক্ষমতা রয়েছে। তবে এখন আমাদের ওটিটি কন্টেন্টগুলোতে থ্রিলারধর্মী কাজ বেশি হচ্ছে। একই রকম কাজ বারবার করা থেকে সরে আসতে হবে। ড্রামা, রোমান্টিক বা অন্যান্য জনরার কাজও হতে হবে। বিশ্বমানে পৌঁছাতে হলে কন্টেন্টে বৈচিত্র্য আনতে হবে। গল্প যদি ভিন্ন না হয় তবে ভালো নির্মাণ, ভাল তারকা স্বত্ত্বেও দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া যায়না। গল্প লেখকদেরও সম্মান দিতে হবে।
দর্শকরা ইউটিউব, টেলিভিশনে নাটক দেখায় অভ্যস্ত হওয়ায় তাদের মধ্যে টাকার বিনিময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট দেখতে অনীহা রয়েছে। এ সমস্যার সমাধান কি?
ভিকি জাহেদ: নেটফ্লিক্স কি মানুষ খরচ করে দেখেনা? একইভাবে দেশেও যদি ভালোমানের কিছু নির্মাণ হয় তবে মানুষ পয়সা খরচ করেই তা দেখবে। যেমন ‘মহানগর’ সিরিজটি কিন্তু দর্শক পয়সা খরচ করেই দেখেছে। দক্ষ ও গুণী নির্মাতা আমাদের দেশে রয়েছে, ভালো গল্পকার রয়েছে। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলেই ভালো কিছু সম্ভব।
দেশীয় প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’তে মুক্তি পাওয়া আপনার শর্টফিল্মটির কেমন সাড়া পেয়েছেন?
ভিকি জাহেদ: প্রথম ও একমাত্র দেশীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেশ ভালোই সাড়া পেয়েছি। বাবু ভাই ডাকাত চরিত্রে অভিনয় করলেন, অন্যান্যরাও ছিলেন অসাধারণ; পাশাপাশি ভিন্ন আঙ্গিকের গল্প হওয়ায় দর্শক দেখে মজা পেয়েছে।

আপনার নাটকে নিশো-মেহজাবিন জুটি বেশি দেখা যায় কেন?
ভিকি জাহেদ: আমি আমার গল্পের চাহিদা অনুযায়ী শিল্পী নির্বাচন করি। আমার গল্পগুলোতে এই জুটির প্রয়োজন ছিলো বলেই তাদের নেয়া হয়েছে। এছাড়া নতুনদের নিয়ে ও আমি কাজ করছি। নতুন যারা আসছে তাদের মধ্যে কিছু দক্ষ শিল্পী থাকলেও নাটকের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের জন্য আমি অনেক বেশি দক্ষ ও সাবলিল অভিনেতাকেই চাইবো। কাজের সময় আফরান নিশো নাটকের চরিত্রের ভেতর পুরোপুরি ডুবে থাকেন; মেহজাবিন তার স্ক্রিপ্ট, তার সংলাপের পেছনে প্রচুর সময় দেন। এজন্যই হয়তো এই দুজনের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে বেশি।
সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে কি?
ভিকি জাহেদ: আমি মনে করি আমার এখনো অনেক কিছুই শেখার বাকি। সিনেমা তৈরীর ইচ্ছা অবশ্যই রয়েছে। যেদিন ভালো গল্প পাবো এবং মনে হবে সিনেমা বানানো উচিত, তখন সিনেমা তৈরীর কাজে হাত দেব।